খুলনার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া আতঙ্কের ‘ফণী’ এখন আনন্দের ‘ফণী’তে রূপ নিয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ফণী চলে গেলেও আরেক ফণীর আনন্দ আছড়ে পড়েছে পশুর নদীর পাড়ে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া আনন্দের ‘ফণী’কে দেখতে পশুর পাড়ে প্রতিদিন ভিড় করছেন এলাকাবাসী। দেখে দোয়া দিয়ে যাচ্ছেন সবাই।
গত ৩ মে শুক্রবার ঘূর্ণিঝড় ফণী আতঙ্কে খুলনার উপকূলীয় এলাকা দাকোপের চালনা পৌরসভার মাসুম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সাইক্লোন শেল্টারে ওঠেন মাসুম গাজীর পরিবার। ঘূর্ণিঝড় ফণীর রাতে মাসুম গাজীর স্ত্রী রেশমী ছিলেন অন্তঃসত্ত্বা। সেখানেই তার কোল জুড়ে আসে ফুটফুটে এক কন্যা সন্তান। ঝড়ের নামানুসারে মেয়ের নাম রাখা হয় ‘ফণী আক্তার’।
খবর পেয়েই পরদিন রেশমা খাতুনের বাড়িতে ছুটে যান দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াদুদ। রোববার খুলনা জেলা প্রশাসক হেলাল হোসেনও দেখতে যান ফণীকে। সেখানে পরিবারটিকে অর্থ সাহায্যের পাশাপাশি ‘জমি আছে ঘর নেই’ প্রকল্প থেকে নতুন ঘর তৈরি করে দেয়ার নির্দেশ দেন তিনি। এতে আনন্দের বন্যা বইছে ফণী পরিবার ও এলাকাতে।
সুন্দরবনের কোল ঘেঁষা পশুর নদের পাড়ে সরকারের খাস জমিতে কোনো মতে ছনের ঘরে বাস করেন মাসুম গাজী ও রেশমা খাতুনের হতদরিদ্র পরিবার। ফণী তাদের দ্বিতীয় সন্তান। প্রথম সন্তান মাসুমার বয়স পাঁচ বছর। চালনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিকের ছাত্রী সে। ফণীর বাবা মাসুম গাজী চালনা বাজারে একটি দোকানে সাড়ে তিন হাজার টাকার বেতনে ঘড়ি ও বেল্ট মেরামত করেন। মা রেশমা খাতুন নদীতে চিংড়ি পোনা ধরতেন। তবে ফণী গর্ভে আসার পর থেকে আট মাস তিনি কাজ করতে পারছেন না। এই কয়টা মাস খুব কষ্টে সংসার চলেছে।
ফণীর মা রেশমা খাতুন জানান, গণমাধ্যমে এ ঘটনা প্রকাশের পর থেকে সারা দিনই আমার কুঁড়েঘরে লোকজন আসছেন। ফণীকে দেখে তার জন্য দোয়া করছেন। সেজন্য ভালো লাগছে। ফণীর বাবা বলেন, শুক্রবার বিকেলের পর থেকে আবহাওয়া খারাপ হতে শুরু করে। ভয়ে-আতঙ্কে স্কুলে আশ্রয় নেই। সন্ধ্যার পর থেকে ওর প্রসববেদনা শুরু হয়। রাতে আশ্রয়কেন্দ্রেই একটি মেয়েসন্তান প্রসব করে তার স্ত্রী। বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) চিকিৎসকের ব্যবস্থা করেন। পরদিন দুপুরে বাড়ি চলে আসি আমি। তিনি বলেন, অভাবের সংসারে মেয়েটি আমার জন্য সৌভাগ্য বয়ে এনেছে। সামান্য বেতনে চাকরি করি। এখন জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাসজমি ও বাড়ি উপহার পাচ্ছি এটাতেই খুশি।
দাকোপ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল ওয়াদুদ বলেন, ফণীর পরিবারটি ওয়াপদার ওপর ঘর করে বাস করছে। এ পরিবারের জন্য পাশের একটি খাসজমিতে ঘর তৈরির কাজ মঙ্গলবার শুরু হয়েছে, যা দ্রুত সম্পন্ন করে ফণীর পরিবারকে বুঝিয়ে দেয়া হবে।



