ফেনী শহরের অ্যাকাডেমি সড়কে দিনদুপুরে ফুলগাজী উপজেলার চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি একরামুল হক একরামকে পুড়িয়ে হত্যার ৫ বছর পেরিয়েছে গতকাল সোমবার। আলোচিত মর্মদন্ত এ হত্যা মামলার রায়ের এক বছর পার হলেও এখনো অধরা থেকে গেছে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৭ জনসহ পলাতক ১৯ আসামি।
সূত্র জানায়, একরামকে হত্যার পর তার ভাই জসিম উদ্দিন বাদি হয়ে বিএনপি নেতা মাহাতাব উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী মিনারকে প্রধান আসামি করে ফেনী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে তৎকালীন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি আবুল কালাম আজাদ চার্জশিট জমা দেন। দীর্ঘ বিচারকাজ শেষে ২০১৮ সালের ১৩ মার্চ ফেনীর তৎকালীন দায়রা জজ আদালতের বিচারক আমিনুল হক আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ডসহ ৫৫ জনকে সাজা দেন আদালত। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে ২২ জন কারাগারে, ৮জন জামিনে বেরিয়ে পলাতক ও ৯জন শুরু থেকেই পলাতক রয়েছে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক ১৭ আসামিÑ হলো ফুলগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহিদ চৌধুরী, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লায়লা জেসমিন মনির ছেলে আবিদুল ইসলাম আবিদ, চৌধুরী মো: নাফিজ উদ্দিন অনিক, আরমান হোসেন কাউসার, জাহেদুল হাসেম সৈকত, জিয়াউর রহমান বাপ্পি, জসিম উদ্দিন নয়ন, এমরান হোসেন রাসেল ওরফে ইঞ্জিনিয়ার রাসেল, রাহাত মো: এরফান ওরফে আজাদ, একরাম হোসেন আকরাম, শফিকুর রহমান ময়না, কফিল উদ্দিন মাহমুদ আবির, মোসলেহ উদ্দিন আসিফ, ইসমাইল হোসেন ছুট্টু, মহিউদ্দিন আনিছ, বাবলু ও টিটু।
একরামের ভাই মোজাম্মেল হক জানান, একরাম হত্যা মামলার ১৯ আসামি পাঁচ বছরেও ধরা পড়েনি। এদের মধ্যে ১৭ আসামিই মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত। বাকি দু’জনও সাজাপ্রাপ্ত। রায় দ্রুত কার্যকর করতে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।
ফেনী জেলা কারাগারের জেলার মো: দিদারুল আলম জানান, রায়ের পর আসামিদের ফেনী জেলা কারাগার থেকে ঢাকার কাশিমপুরের হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। তবে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে ফেনী জেলা কারাগারে রয়েছে আসামি নুর উদ্দিন মিয়া, আরিফ ওরফে পাঙ্কু আরিফ ও তোতা মানিক। দণ্ডপ্রাপ্ত এ তিন আসামি একাধিক মামলার আসামি হওয়ায় আদালতে হাজিরা দিতে কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাদের ফেনী কারাগারে আনা হয়েছে। এ ছাড়া কুমিল্লা জেলা কারাগারে রয়েছেন জাহাঙ্গীর কবির আদেল ও আবদুল্লাহ হিল মাহমুদ শিবলু।



