বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির অন্যতম অঙ্গসংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কালের আবর্তে হারাতে বসেছে তাদের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। এর প্রধান কারণ হচ্ছে গ্রুপিং। এই গ্রুপিংয়ের শিকার জামালপুর জেলা ছাত্রদলও। আর এই গ্রুপিংয়ে ক্ষুব্ধ সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। তাই দলের এই দুঃসময়ে জামালপুরে গ্রুপিংমুক্ত ছাত্রদল চাইছেন তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সাবেক ছাত্রদল নেতা অভিযোগ করে বলেন, জামালপুরে ছাত্রদলে দলীয় অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক চর্চা ও শৃংখলা নেই বললেই চলে। কর্মী মূল্যায়নও শূন্যের কোঠায়। ‘মাই ম্যান’ রাজনীতির কারণেই দলীয় নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ। বিরাজ করছে চাপা ক্ষোভ। কোনো পদক্ষেপ নেই গ্রুপিং নিরসনে।

তারা আরো বলেন, বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে অবিস্মরণীয় ভূমিকা রেখে জাতিকে পথ দেখিয়েছে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। আজ ছাত্রদল নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ না থাকায় নিজেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্বৈরশাসকের হাত থেকে দেশ ও জাতিকে মুক্ত করতে পারছে না ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। বৃহত্তর একটি সংগঠন ছাত্রদল। এরপরও আমাদের মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ষড়যন্ত্রমূলকভাবে কারাগারে বন্দী, তা কখনোই মেনে নেয়া যায় না। এমন ছাত্রদল দিয়ে কি হবে। সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে এবং গ্রুপিং না থাকলে চাঙ্গা থাকবে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা এবং যেকোনো আন্দোলন-সংগ্রাম সফল হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছরের ১২ জুলাই আংশিক (১৪ সদস্য বিশিষ্ট) জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণার পর থেকেই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করছে। প্রাণচাঞ্চল্য হারিয়ে ফেলেছে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। ১০ মাস অতিবাহিত হলেও ওই কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয়নি। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সোহেল রানা খান এবং সাধারণ সম্পাদক ওমরুজ্জামান দর্শন চৌধুরীর নেতৃত্বে পৃথক দুটি গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। এ কারণে নবগঠিত ওই কমিটির নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়ে ঘরোয়াভাবেও আলোচনা বা পরিচিতি সভা করতে পারেননি। আর গ্রুপিং দ্বন্দ্ব ফুঁসে উঠায় দ্বিধা-বিভক্ত নতুন ও পুরাতন ছাত্রদল কর্মীরা। কোন গ্রুপের সাথে রাজনীতি করবো- এমন প্রশ্ন ছাত্রদল কর্মীদের।

এদিকে ওই গ্রুপিংয়ের কারণে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৮তম শাহাদৎ বার্ষিকী উপলক্ষে গত বৃহস্পতিবার পৃথক দু’টি স্থানে জেলা ছাত্রদলের আয়োজনে কর্মসূচি পালিত হয়েছে। দুপুরে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সোহেল রানা খানের নেতৃত্বে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দুস্থদের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। একই দিন বিকেলে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ওমরুজ্জামান দর্শন চৌধুরীর নেতৃত্বে শহরের কথাকলি মার্কেটস্থ দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোশারফ হোসেন সিদ্দিকী এ প্রতিবেদককে বলেন, বর্তমানে দলের এই ক্রাইসিস সময়ে সবাইকে নিয়েই রাজনীতি করা উঠিত। কাউকে বাদ দিয়ে নয়। এই সময় কাউকে বাদ নিয়ে রাজনীতি করা মানে বোকার স্বর্গে বসবাস করা। সবাই সম্মিলিতভাবে অনুষ্ঠান করলে ফোকাসটাও ভালো হতো। যেসব ছাত্রদল নেতাকর্মীরা দুর্বল হয়ে গেছে এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত তারা অনেকটা চাঙ্গা থাকতো।

এদিকে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ওমরুজ্জামান দর্শন চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, আমার সাথে পরামর্শ না করে এককভাবে জেলা ছাত্রদলের আয়োজনে গত ২০ মে শহরের রাণী কমিউনিটি সেন্টারে ইফতার মাহফিল করেছে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সোহেল রানা খান। ওই অনুষ্ঠানে তার সমর্থিত ছাত্রদল নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু আমার সমর্থিত ছাত্রদল নেতাকর্মীদের দাওয়াত দেওয়া হয়নি। এ বিষয়টি নিয়ে ছাত্রদলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে দলের এই দুঃসময়ে ভেদাভেদ ও রাগ ভুলে সকলেই একত্রিক হয়ে কর্মসূচি পালন করলে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা থাকবে। নইলে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা বিভ্রান্ত হয়ে পড়বে। ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। তবেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন সফল হবে এবং আমাদের মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাগার থেকে মুক্ত হবেন।

এ ব্যাপারে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সোহেল রানা খান এ প্রতিবেদককে বলেন, জেলা ছাত্রদলের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিল সম্পর্কে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের সাথে কথা হয়েছিল।

ছাত্রদলের গ্রুপিং প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সোহেল রানা খান বলেন, আমি মূল ¯্রােতধারার সাথে রাজনীতি করি। আমার সাথে কিংবা জেলা ছাত্রদলের মধ্যে কোনো গ্রুপিং নেই। সবার সাথেই আমার যোগাযোগ রয়েছে। আপাত দৃষ্টিতে জেলা ছাত্রদলে যে গ্রুপিং পরিলক্ষিত হচ্ছে তা আমার সাথে নয়।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে দলের এই ক্রান্তিলগ্নে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন সফল করতে ‘মন থেকে’ সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তবেই আন্দোলন-সংগ্রাম সফল হবে। মুক্তি পাবেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। বাংলাদেশে ভোটের অধিকার ফিরে আসবে এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে।