ফেনীতে পিতাকে নির্মমভাবে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন ছেলে শাহাদাত হোসেন রিফাত (২৪)। রোববার দুপুরে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে রিফাত।

পুলিশ ও স্বজনরা জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সাইফুল ইসলাম রবিবার দুপুরে রিফাতকে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালতে হাজির করে। রিফাত ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে তার পিতা হুমায়ুন কবিরকে হত্যার কথা স্বীকার করে।

জবানবন্দিতে রিফাত জানায়, তার পিতা বিভিন্ন সময়ে নেশা করে তার মাকে মারধর করতো। এছাড়াও তার বিদেশ থেকে ফেরত আসা নিয়ে গালমন্দ করেন। মঙ্গলবার রাতে এসব বিষয় নিয়ে বাক-বিতন্ডার জের ধরে ক্ষিপ্ত হয়ে তার বাবাকে ধাক্কা দিলে তিনি ফ্রিজের উপর গিয়ে পড়েন। এতে তিনি মাথায় প্রচন্ড আঘাত পেয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন।

পরে এ্যাম্বুলেন্সে করে পাশ্ববর্তী এ্যাপোলো হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে স্ট্রোক করেছে বলে প্রচার করে। তড়িঘড়ি করে দাফন করতে বুধবার বিকাল ৪টায় ফুলগাজী উপজেলার মুন্সীরহাটের জগতপুরে নিজ গ্রামে জানাযা হবে বলে মাইকিং করা হয়। লাশের গোসল করানোর সময় মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেয়ে সন্দেহ হলে আত্মীয়রা ফুলগাজী থানায় খবর দেয়।

পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে। পরদিন বৃহস্পতিবার বিকালে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের সদস্যদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হলে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

নিহত হুমায়ুন কবির ফুলগাজী উপজেলার সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ গাবতলা গ্রামের আবদুর রশীদের ছেলে। নিহতের বোন ছলিমা আক্তার মায়া জানান, আমার ভাইকে গলায় রশি পেঁচিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। আমাকে ফোন করে বলে আমার ভাই স্ট্রোক করে মারা গেছে। আমি এ হত্যাকান্ডের বিচার চাই।

ফুলগাজী থানার এসআই আবুল কাসেম জানান, নিহত হুমায়ুন কবিরের গলায়, মাথায় ও বুকে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। নিহতের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম মনি স্ট্রোকে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে হাসপাতালের কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।

ফেনী মডেল থানার ওসি (অপারেশন) মো: মাহবুবুর রহমান জানান, আসামী শাহাদাত হোসেন রিফাত তার পিতাকে হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বোন বাদী হয়ে রিফাত ও তার মা মনোয়ারা বেগম মনিকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর রিফাতকে সদর হাসপাতাল এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।