বরিশালের গৌরনদী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান ফরহাদ মুন্সীর বিরুদ্ধে উপজেলার তাঁরাকুপি গ্রামে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে সামাজিক বনায়নের ৫টি রেনট্রি গাছ অবৈধভাবে কেটে ফেলে ফিলিং স্টেশনের (পেট্রল পাম্পের) রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তাঁরাকুপি গ্রামে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক ঘেঁষে আরিফ ফিলিং স্টেশনের নির্মাণকাজ চলছে দীর্ঘদিন ধরে। কিন্তু ফিলিং স্টেশনের রাস্তার কাজ থেমে থাকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের সামাজিক বনায়নের কয়েকটি গাছের কারণে। গাছগুলো কোনোভাবেই সরাতে পারছিল না তারা। উপজেলা বন কর্মকর্তার কাছে একটি আবেদন করে ফিলিং স্টেশনের দুই মালিক মঙ্গলবার সকাল থেকে শ্রমিক দিয়ে ফিলিং স্টেশনের প্রবেশদ¦ারের দু’পাশের ৩টি রেনট্রি গাছ কেটে সে। গাছ ৩টির কারণে ফিলিং স্টেশনের (পেট্রল পাম্পে) যানবাহন প্রবেশের কোনো অসুবিধা না হলেও পেট্রল পাম্পটির শ্রীবৃদ্ধির জন্য উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নিজের ব্যবসার সুবিধার্থে সরকারি নীতিমালাকে উপেক্ষা করে উপজেলা বন কর্মকর্তার যোগসাজশে টেন্ডার ছাড়াই মঙ্গলবার সকালে গাছ কাটা শ্রমিক দিয়ে ৩টি রেনট্রি গাছ কেটে অপসারণ করেছে। তারা প্রায় অর্ধলাখ টাকা মূল্যের ৫টি রেনট্রি কেটে ফেলেছে বলে স্থানীয়রা দাবি করছেন।
উল্লেখ্য ফরহাদ হোসেন মুন্সীর বিরুদ্ধে গত ২১ মে ভারপ্রাপ্ত খাদ্য কর্মকর্তার লিখিত অভিযোগে জানা যায়, তাকে অস্ত্রের মুখে ৩৬ লাখ টাকার চেক লিখিয়ে নেয়া হয়েছে। এলাকায় ফরহাদের বিরুদ্ধে পর পর এরকম অভিযোগের কারণে জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার খালেদা নাছরিন জানান, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী গাছ কাটতে হলে উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভায় প্রস্তাব উপস্থাপন করে তা পাস করতে হবে। এরপর সভার রেজুলেশন মোতাবেক প্রকাশ্য টেন্ডার আহবান করে তা বিক্রি করতে হবে। অথচ উপজেলা বন কর্মকর্তা মাসিক সভার অনুমোদন ছাড়াই কিভাবে ভাইস চেয়ারম্যানকে গাছ কাটার অনুমতি দিলেন তা আমার জানা নেই। উপজেলা বন কর্মকর্তা মনিন্দ্রনাথ হালদার জানান, গাছ ৩টির কারণে পাম্পের লাইট পোস্টের আলোতে ছায়া পড়ছিল। এ কারণে ভাইস চেয়ারম্যান গাছ ৩টি অপসারণের আবেদন করায় আমরা গাছ তিনটি অপসারণ করার অনুমতি দিয়েছি।
অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো: নুরুজ্জামান ফরহাদ মুন্সী বলেন, গাছ কেটে নেয়ার জন্য উপজেলা বন বিভাগের কর্মকর্তার কাছে গত তিন মাস আগে আবেদন করা হয়েছিল। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা বন বিভাগের কর্মকর্তা ও সামাজিক বনায়নের সভাপতি তাদের শ্রমিক দিয়ে তারা গাছ কেটে নিয়েছে।