রাজবাড়ীর কালুখালিতে উপজেলা নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে আগ্নেয়ান্ত্র প্রদর্শন করে ভোটের মাঠে প্রভাব বিস্তার করার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার উপজেলার মাঝবাড়ী ইউপির বিভিন্ন গ্রামে ভোটারদের মাঝে নির্বাচনী প্রচারণা করতে দেখা গেছে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও নৌকা প্রতীকের প্রার্থী কাজী সাইফুল ইসলাম ও তার সহযোগীদের। এসময় প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি ভোট চাওয়ার ছবি ফেসবুকসহ বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
উপজেলার কুশোর ডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা ও রায়পুর কে এস এম একাডেমীর প্রধান শিকক্ষ সিদ্দিকুর রহমান, বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমার বাড়িতেও কাজী সাইফুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এসেছিল।
আনারস প্রতীকের আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী, আলিমুজ্জামান চৌধুরী টিটু বলেন, ‘কাজী সাইফুল ইসলাম প্রকাশ্য দিবালোকে নিজে ও তার অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে আমি মৌখিক ভাবে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে বলেছি রিটার্নিং কর্মকর্তার নিকটও লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি।’
রতনদিয়া ইউপি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, শাহ মো: আজিজ বলেন, ‘কাজী সাইফুল ইসলাম বহিরাগত সন্ত্রাসীদের ভাড়া করে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের মুখে জনগণের ভোটের অধিকার হরণ করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে ও জনমনে আতংকিত সৃষ্টি করছে।’
জেলা পরিষদ সদস্য মিজানুর রহমান মজনু বলেন, ‘কাজী সাইফুল ইসলাম অস্ত্র ও সন্ত্রাসীদের দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে নির্বাচনে জয়লাভ করার চেষ্টা করছে। ইতিমধ্যে আমাকেও তিনি প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন। আমি সংবাদ সম্মেলন করেছি ও থানাকে অবগত করেছি।’
এদিকে কালুখালী উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে ইতিমধ্যে কয়েক দিনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কর্মীসমর্থকদের উপর হামলা ও মারপিটের ঘটনা ঘটেছে।
এ বিষয়ে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী কাজী সাইফুল ইসলামের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি বলেন, তার বিজয় সুনিশ্চিত জেনে অন্যান্য প্রার্থীরা বিভ্রান্ত হয়ে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছে।
কালুখালী থানার অফিসার ইনচার্জ এস এম ফরহাদ হোসেন ভোটারদের আশ^স্ত করে বলেন, ‘পুলিশ সুপারের নির্দেশনা মোতাবেক পুলিশের সব কয়টি ইউনিট সজাগ ও তৎপর রয়েছে। কোনো অবৈধ শক্তি যাতে ত্রাস সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য গোয়েন্দা নজরদারীসহ টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে।’
কালুখালী উপজেলা পরিষদ নির্বাচন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন অফিসার মো: হাবিবুর রহমান বলেন, ‘নৌকা প্রতীকের প্রার্থী কাজী সাইফুল ইসলামের আগ্নেয়াস্ত্রসহ নির্বাচনী এলাকায় নির্বাচনী কার্যক্রম করার বিষয়ে আমি অবগত নই। তবে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে কোনো প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না। কেউ সেটা করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। লাইসেন্সকৃত বৈধ অস্ত্রও জমাদানের বিষয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে।’
দেশে আগামী ১৮ জুন পঞ্চম ধাপের উপজেলার পরিষদ নির্বাচনে এখানেও ভোট গ্রহণ হবে।



