পদ্মায় দ্রুত হারে পানি বৃদ্ধিতে প্রবল স্রোত ও ডুবোচর এড়িয়ে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল করায় উভয় ঘাটে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। বহরের ২০টি ফেরির মধ্যে চার-পাঁচটি বিকল থাকায় যানজট যেন স্থায়ী রূপ নিয়েছে। পাটুরিয়া দৌলতদিয়া ঘাটে ও আরিচা বিকল্প সড়কে অন্তত দেড় হাজার পণ্যবাহী ট্রাক পারের অপেক্ষায় রয়েছে। পারের অপেক্ষায় সময় ক্ষেপণ, দ্রব্যমূল্য বেশি, শৌচাগার সঙ্কটসহ নানা কারণে যাত্রী ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
জানা গেছে, পদ্মা-যমুনায় গত তিন দিনে প্রায় দেড় ফুট পানি বৃদ্ধি পায়। এতে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে ফেরি চলাচলের জন্য নির্ধারিত চ্যানেলের কয়েক স্থানে ডুবোচর সৃষ্টি হয়েছে। ডুবাচরে আটকে পড়া এড়াতে ধীর গতি ও ঘুর পথে ফেরি চালাতে হচ্ছে। এতে ফেরি চলাচলে অতিরিক্ত সময় লাগছে। এ ছাড়া পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে ফেরি পন্টুন উঁচু করার কাজে ফেরি লোড-আনলোডে সময় বেশি লাগছে। সপ্তাহের বৃহস্পতি ও শুক্রবার এ রুটে যানবাহন চাপ স্বাভাবিক কারণে বৃদ্ধি পায়। ফেরি চলাচল ব্যাহত হওয়ায় উভয় ঘাটে যানজট লেগেই আছে।
ফেরি সংস্থা বিআইডব্লিউটিসির এজিএম জিল্লুর রহমান জানান, পানি বৃদ্ধির কারণে তীব্র স্রোত ও ডুবোচর এড়িয়ে ফেরি চলাচল করায় ট্রিপ টাইম কমে যাচ্ছে। এ ছাড়া যানবাহন চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় উভয় ঘাটে পারাপারের অপেক্ষায় থাকা যানবাহনের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।
এদিকে বাস কোচ কারসহ ছোট যানবাহন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপারের নিয়ম রয়েছে। তবে পারের অপেক্ষায় থাকা বিশেষ করে ট্রাক মালিক-শ্রমিকরা অভিযোগ করেন ঘাটে কর্মরত ফেরি সংস্থার একশ্রেণীর কর্মকর্তা ও চিহ্নিত দালালরা সিরিয়াল ভঙ্গ করে মোটা টাকায় ফেরিতে ট্রাক তুলে দিচ্ছে। তবে দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন।