নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা আর গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলাকে ভেদ করে বয়ে গেছে পুরনো ব্রহ্মপুত্র নদ। পূর্বপাশে মনোহরদী উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়ন আর পশ্চিম পাশের কাপাসিয়ার সনমানিয়া ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ এই নদ পারাপারের দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এই নদ পার হতে প্রত্যেকদিন গড়ে দুই সহস্রাধিক সাধারণ মানুষ আর শতাধিক শিক্ষার্থীর একমাত্র অবলম্বন হলো বর্ষাকালে একটি খেয়া নৌকা শুকনো মওসুমে বাঁশের সাঁকো। নদ পারাপারের দুর্ভোগ থেকে মুক্তির জন্য একটি সেতু নির্মাণ দুই ইউনিয়নবাসীর প্রাণের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রত্যেক দিন দৌলতপুর ইউনিয়নের দৌলতপুর, কুচেরচর, কীর্তিবাসদি, নিশ্চিন্তপুর, কেরানীনগর এবং সনমানীয়া ইউনিয়নের দক্ষিণগাঁও, মির্জানগর, সনমানিয়া, আড়ালসহ নানা এলাকার প্রায় পাঁচ হাজার সাধারণ মানুষ নদ পার হয়। এ ছাড়া শতাধিক শিক্ষার্থী মির্জানগর হয়ে নদ পাড়ি দিয়ে দৌলতপুর হয়ে দৌলতপুর ইউনিয়ন উচ্চবিদ্যালয়, লাখপুর শিমুলিয়া কলেজ, হাতিরদিয়া রাজি উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ, হরিনারায়রপুর মাদরাসা এবং দৌলতপুর হতে নদ পাড়ি দিয়ে মির্জানগর হয়ে আড়াল জিএল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বর্ণমালা স্কুল অ্যান্ড কলেজের শ্রেণী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে থাকে। জীবন ঝুঁকি নিয়েই তারা শুধু শিক্ষার জন্য এ নদ পাড়ি দিয়ে থাকে। এ ছাড়া নদের এক পাশে দৌলতপুর রদখোলা বাজার এবং অন্য পাশে মির্জানগর নতুন বাজার অবস্থিত হওয়ায় কৃষকেরা তাদের সবজি নিয়ে নদ পার হয়ে বাজারে যেতে সমস্যায় পড়েন হন। অনেক সময় ব্যবসায়ীরা দ্রব্যাদি বিক্রি করে বাজার শেষে রাতে বাড়ি ফিরেতেও সমস্যায় পড়েন। নৌকা পারাপার বাবদ ৫ থেকে ১০ টাকা নৌকার মাঝিকে দিতে হয়।
অন্য দিকে কাপাসিয়ার আড়ালে অবস্থিত এনপিএম অ্যাপারেলস কোম্পানির শ্রমিকেরা বিভিন্ন শিফটে ডিওটি করতে গিয়ে পড়তে হয় বিভিন্ন সমস্যায়। অনেক সময় বর্ষাকালে নৌকার বিড়ম্বনায় পড়ে সময়মতো কাদের কাজে যোগ দিতে পারে না। এবং রাতের শিফটে কাজ করার সময় নদ পার হতে সমস্যায় পড়তে হয়।
এ বিষয়ে সনমানিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মালেক ভূঁইয়া জানান, মির্জানগর চরে উৎপাদিত শাক-সবজি নদের ওই পাড়ে অবস্থিত দৌলতপুর রদখোলা বাজার, লাখপুর শিমুলিয়া বাজার, কোচেরচর নতুন বাজার এবং হাতিরদিয়া বাজারে বিক্রি করতে হয়। ফলে কৃষকদের উৎপাদিত এ সবজি বাজারে বহন করে নিয়ে যাওয়ার সময় সাঁকো পার হতে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়। এ জন্য কৃষকদের পরিবহন খরচ হয় বেশি।
দৌলতপুর ইউপি চেয়ারম্যান হাদিউল ইসলাম বলেন, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর সেতু নির্মাণ দৌলতপুর এবং সনমানিয়া ইউনিয়নবাসীর প্রাণের দাবি। যথাযথ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আমলে নিলে সাধারণ জনগণের দুর্ভোগ অনেকটা লাঘব হবে।
দৌলতপুর ইউনিয়ন উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুর রশিদ জানান, পুরনো ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর সেতু নির্মাণ অতি জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ নদের ওপর সেতু নির্মাণ হলে স্কুল, কলেজ, মাদরাসার শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের কষ্টের অবসান হবে।



