পাহাড়ি ঢলে যমুনায় পানি বাড়ার সাথে সাথে সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে শুরু হয়েছে ব্যাপক নদীভাঙন। কাজিপুর সদর ইউনিয়নের পাটাগ্রাম সিলিডস্পারে ভাঙন দেখা দেয়ায় আতঙ্কে রয়েছে ভাটিতে অবস্থিত গান্ধাইল ইউনিয়নের বাঐখোলা, পাটাগ্রাম, সিংড়াবাড়ি ও শুভগাছা ইউনিয়নের জনগণ। ভাঙনকবলিত মানুষ অনেকেই দুশ্চিন্তায় নির্ঘুম রাত যাপন করছেন।
জানা যায়, প্রায় এক মাস ধরে যমুনা নদীতে কাজিপুর পয়েন্টে হঠাৎ করেই পাটাগ্রাম ও সিংড়াবাড়ি এলাকায় ব্যাপকভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে। পাটাগ্রাম সলিডস্পারের ভাটিতে ও উজানে ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হয়ে স্পারের দুই পাশের গোড়ার মাটি প্রায় ২০০ মিটার ধসে গেছে। দুই পাশে শুরু হয়েছে ব্যাপক ভাঙন। ভাঙনের কারণে স্পারটি যেকোনো সময় নদীতে ধসে যেতে পারে। এতে মধ্যে সিংড়াবাড়ি সলিডস্পারটি ধসে গেছে। নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে ফসলি জমি ঘরবাড়ি। গত এক মাসে প্রায় অর্ধশতাধিক বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের মুখে পড়া ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। ভাঙন রোধে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। ভাঙন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় ইতোমধ্যে ভাঙনের মুখে বিলীন হয়ে গেছে চোরমারা, ঝুমকাইল, তারাকান্দি, বারাবাড়ি. টেংলাহাটা, দোয়েল, বাঘগাড়ী, পাটাগ্রাম, পূর্ব খুকশিয়া, খাস খুকশিয়া, প্রজারপাড়া, বেতগাতী, চর সিংড়াবাড়ি, ভুরুঙ্গী, কান্ত নগর, শুভগাছাসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম।
ভাঙন এলাকার আলমাস আলী বলেন, গত এক মাসে দুইবার টানা দিয়েছি। আবারো বাড়িঘর হুমকির মধ্যে। পানি উন্নয়ন বোর্ড এখনো কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। এশারত মিয়া অভিযোগ তরে বলেন, ভাঙনের মুখে ঘরবাড়ি সরাতে সরাতে একবারে সর্বস্বান্ত হয়ে গেলাম। তিনি আরো বলেন, পানি বাড়তে শুরু করেছে এখনি ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। ব্যবস্থা না নিলে আবারো ঘরবাড়ি নদীতে চলে যাবে। স্থানীয় লোকজন ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্থক্ষেপ কামনা করেছেন।
সিরাজগঞ্জন পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী এ কে এম রফিকুল ইসলাম বলেন, সিংড়াবাড়ি ও পাটাগ্রাম সলিডস্পারের যে ভাঙন দেখো দিয়েছে তা প্রতিরোধের জন্য আমরা জরুরি ভিক্তিতে কিছু বালুর জিও ব্যাগ ফেলেছি। ভাঙন ঠেকাতে টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে। আশা করি খুব তাড়াতাড়ি কাজ শুরু হয়ে যাবে।