নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা ও কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মানুষের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম আড়িয়াল খাঁ নদীর ওপর নির্মিত সেতু। এই সেতুর ওপর দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ এবং যান চলাচল করে। ঢাকা-কিশোরগঞ্জ ভায়া মনোহরদী সড়কের সব যানবাহন এই সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করে। শুরুতে সেতুটি লোহার হলেও দুই বছর আগে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় কিশোরগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) দরপত্র আহ্বান করে সেখানে পাকা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। সে মোতাবেক সেতু নির্মাণের কাজ পায় ময়মনসিংহের মেসার্স রেজভী কনস্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। দুই মাস আগে তারা নির্মাণকাজ শেষ করে। কিন্তু নির্মাণের দুই মাসের মধ্যেই সেতুর সংযোগ সড়কটির মনোহরদী সীমানার একাংশ ধসে পড়েছে। আর উত্তর পাশের পাকুন্দিয়া সীমানার একাংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে সড়কটি দেবে গিয়ে এ ধসে পড়ার ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তড়িঘড়ি করে দেবে যাওয়া স্থানে বালি সিমেন্ট দিয়ে জোড়াতালি দিয়েছে। এই জোড়াতালিও অত্যন্ত নিম্নমানের হওয়ায় যেকোনো সময় আবার ধসে পড়তে পারে।
জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের সড়ক ও জনপথ বিভাগ সেতুটির নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। ৯ কোটি ৭৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ময়মনসিংহের রেজভী কনস্ট্রাকশন এ প্রকল্প কাজের দায়িত্ব পায়। তারা গত ১৬ মে এ সেতু ও সংযোগ সড়কের কাজ শেষ হয়। ওই দিনই সেতুটি উদ্বোধন করেন কিশোরগঞ্জ-২ (পাকুন্দিয়া-কটিয়াদী) আসনের সংসদ সদস্য সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সড়কটির ধসে পড়া অংশে বাঁশের খুঁটি পুঁতে বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন রোধ করার চেষ্টা করা হয়েছে। বালুর বস্তার ওপর থেকে মাটি সমান না করেই এলোমেলোভাবে প্যালাসাইড বসিয়ে সিমেন্টের পলেস্তরা দেয়া হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই মাটি দেবে গিয়ে যেকোনো সময় বাঁশের খুঁটি ভেঙে আবার বড় আকারে ধস দেখা দেয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা লাল মিয়া বলেন, সেতুর সংযোগ সড়কটির নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে। নিচ থেকে মাটি ভরাট না করে যেনতেনভাবে কাজটি করা হয়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি ধসে পড়েছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রেজভি কনস্ট্রাকশনের সুপারভাইজার নির্তন বাবু বলেন, ‘নির্মাণের পর সড়ক ভাঙতেই পারে।
কিশোরগঞ্জের সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল আলম বলেন, ‘সেতুর সংযোগ সড়ক ধসে পড়া এবং ফাটল সৃষ্টির বিষয়টি আমার জানা নেই। এমনটি হয়ে থাকলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।



