মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের পর আগুনে পুড়িয়ে হত্যায় দায়ের করা মামলায় বিচারকসহ আরো পাঁচজনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল বুধবার ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে উপস্থিত হয়ে তারা সাক্ষ্য দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নুসরাত রাফি হত্যা মামলায় ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো: জাকির হোসাইন, রাসায়নিক পরীক্ষক পিংকু পোদ্দার, সহকারী রাসায়নিক পরীক্ষক মো: নজরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম সিআইডির সহকারী ও রাসায়নিক পরীক্ষক রোমানা আক্তার ও পিবিআইয়ের ডিজিটাল ল্যাব পরিদর্শক মোহাম্মদ আব্দুল বাদি আদালতে সাক্ষ্য দেন। বৃহস্পতিবার এ মামলার আরো সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন আদালত। এ হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত বাদিসহ ৬৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে।
আদালত সূত্র জানায়, সাক্ষ্য দিতে গিয়ে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো: জাকির হোসাইন বলেন, গত ৬ এপ্রিলের ঘটনার পর বিভিন্ন সময় মামলার সাতজন আসামি আমার কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন। আমি নিয়মকানুন মেনে সাত আসামির জবানবন্দী গ্রহণ করি। এ ছাড়া মামলার ছয়জন সাক্ষীও আমার কাছে জবানবন্দী দিয়েছেন।
মামলার আরেক সাক্ষী রাসায়নিক পরীক্ষক পিংকু পোদ্দার বলেন, আদালতের নির্দেশে গত ২ মে আমার কাছে কিছু আলামত পাঠানো হয়। এগুলোর মধ্যে কালো রঙের তৈলাক্ত পলিথিন, সবুজ রঙের সুতি কাপড়ের সালোয়ারের পোড়া অংশ ও পাথরের পুঁতির কাজ করা কালো রঙের বোরকার পোড়া অংশ ছিল। রাসায়নিক পরীক্ষায় এসব আলামতে কেরোসিন জাতীয় দাহ্য পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া যায়।
সহকারী পরীক্ষক নজরুল ইসলামেরও একই বক্তব্য হওয়ায় আদালত উভয়ের একই বক্তব্য হিসেবে তা লিপিবদ্ধ করেন। এ ছাড়া সিআইডির চট্টগ্রামের রাসায়নিক পরীক্ষাগারের সহকারী পরীক্ষক রোমানা আক্তারও আলামতগুলোর মধ্যে দাহ্য পদার্থের উপস্থিতি পান বলে আদালতে জানান।
পিবিআইয়ের ডিজিটাল ল্যাবের পরিদর্শক মোহাম্মদ আব্দুল বাদি বলেন, গত ২০ মে আদালতের নির্দেশে একটি সাদা ও সোনালি রঙের অপ্পো মোবাইল পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। আমি এটি পরীক্ষা করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিই। তদন্ত সংস্থার পক্ষ থেকে ওই মোবাইল সেটের বিষয়ে চারটি মতামত জানতে চাওয়া হয়েছিল। আমি ওই চার বিষয়ে মতামত প্রদান করি। এ সংক্রান্ত একটি সিডি আদালতে জমা দেয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় আলিম পরীক্ষাকেন্দ্রে গেলে নুসরাত জাহান রাফিকে ছাদে ডেকে নিয়ে তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আলোচিত এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক মো: শাহ আলম আদালতে মোট ১৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র জমা দেন।
রাফি হত্যা মামলায় বিচারকসহ ৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ
মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের পর আগুনে পুড়িয়ে হত্যায় দায়ের করা মামলায় বিচারকসহ আরো পাঁচজনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল বুধবার ফেনীর নারী ও শিশু...



