অভিন্ন নদীতে অববাহিকাভিত্তিক পানি ব্যবস্থাপনায় রাজি হয়েছে ভারত। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ-ভারত দু-দেশ মিলে গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্পটির ব্যাপারে সমীক্ষা করতেও সম্মত হয়েছে। এছাড়া অভিন্নগুলি মধ্যে মনু, মুহুরী, খোয়াই, গোমতী, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বন্টনের জন্য তথ্য-উপাত্ত বিনিময় করে চুক্তির ব্যাপারে এক ফ্রেমওয়ার্ক প্রণয়নের সিদ্ধান্ত হয়। এর পাশাপাশি দীর্ঘ অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠতে যৌথ নদী কমিশনের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে বসতে তাড়াতাড়ি দিনক্ষণ ঠিক করবে বলেও সম্মত হয় দু-দেশ।
আজ বৃহস্পতিবার সন্ধায় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) সচিব পর্যায়ের বৈঠক শেষে দু-দেশের পক্ষে আনুষ্ঠানিক বিফ্রিংয়ে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। দীর্ঘ প্রায় আট বছর পর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন মেঘনায় সকাল থেকে দিনব্যাপী এ বৈঠকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। অপরদিকে ভারতের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব উপেন্দ্র প্রসাদ সিং বৈঠকে সে দেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন।
বৈঠকের একটি সুত্র জানায়, গঙ্গার পানি বন্টনের পানি কম পাওয়ার বিষয়টিসহ আরো কয়েকটি নদী নিয়ে কার্যক্রমের পর্যালোচনা করা করা। উভয় দেশের করেয়কটি নদী দুষণ নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের আলোচনা হয়। এছাড়া ফারাক্কা পয়েন্টে গঙ্গার নদীর পানি বৃদ্ধি, অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন, সীমান্ত নদীর ভাঙন রোধসহ নদীর পানি ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো যা দীর্ঘদিন আলোচনায় আসছে না-যা ঐ বৈঠকে তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ভারতকে বুঝিয়ে আসছিল যে অববাহিকাভিত্তিক পানি ব্যবস্থাপনা ছাড়া অভিন্ন নদী পানির সমস্যা কোন দেশই এককভাবে সমাধান করতে পারবে না। তবে আজ ভারত এ ব্যাপারে কাজ করতে সম্মত হয়।
বৈঠকের পর বিফ্রিংয়ে ভারতের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব উপেন্দ্র প্রসাদ সিং ইঙ্গিত দেন দীর্ঘদিন ধরে দু-দেশের মধ্যে যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক হচ্ছে না। এজন্য দু’টি দেশের নব নির্বাচিত সরকারের মধ্যে একটা নতুন প্রেরণা তৈরি করতে বৃহস্পতিবার যৌথ নদী কমিশনের বৈঠকের সূচনা। তবে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে উপেন্দ্র প্রসাদ সিং কবে কোন নদীর বেলায় বাংলাদেশ-ভারত অববাহিকাভিত্তিক পানি ব্যবস্থাপনায় কাজ করবে সে ব্যাপারে তিনি জানাননি। তবে তিনি জানান বাংলাদেশের ক্ষতি হবে এমন কোন পরিকল্পনা নেবে না। বিশেষ করে আন্তঃনদী সংযোগ পরিকল্পনার ব্যাপারে তিনি বলেন, এমন কর্মযজ্ঞ করতে ভারতের ভেতরেও আপত্তি আছে। অনেক দল মত নিয়ে ভারত কাজ করে। বর্তমান সময়ে এধরণের প্রকল্প বাস্তবায়ন আসলে খোদ ভারতের ভেতরেই সমস্যা তৈরি করবে। আর বাংলাদেশতো প্রতিবাদ করবেই। তাই এত সময় এধরনের প্রকল্প সত্যিই কষ্টসাধ্য।
অপরদিকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার দু-দেশের নির্বাচিত সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বৈঠকেটি মধ্য দিয়ে যৌথ নদী কমিশনের সচিব পর্যায়ের বৈঠকে একটা অচলাবস্থা কাটাতে কাটাতে সাহায্য করবে। পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে দু-দেশ আর ও বৈঠকে করে সমস্যা সমাধানে কাজ করবে। তবে অভিন্ন নদীর পানি ভাগাভাগি নিয়ে দু-দেশের মধ্যে কোন সমস্যা নেই।



