কক্সবাজারের পেকুয়ায় সন্ত্রাসীদের অতর্কিত হামলায় চিকিৎসক ও ব্যাংক কর্মকর্তাসহ অন্তত পাঁচ ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়ে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন।
জানা যায়, গতকাল সকাল সাড়ে ৮টায় পেকুয়া উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের হাজিরঘোনা এলাকার বাসিন্দা ডা: শফিকুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর এ হামলার ঘটনা ঘটে। ডেন্টিস্ট ডা: শফিকুল ইসলাম পেকুয়া নূর হাসপাতালের দাঁতের চিকিৎসক। এ সময় তার সহোদর ব্যাংক কর্মকর্তা মুনিরুল ইসলামও আক্রান্ত হন। আহতপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, স্থানীয় চিহ্নিত সন্ত্রাসী নঈমের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী কিছু দিন আগে বাঘগুজারা স্টেশনে ডা: শফিকুল ইসলামের ছোট ভাই ইসমাঈলের মালিকানাধীন একটি দোকানঘর আওয়ামী লীগের অফিসের নাম দিয়ে দখল করে নেয় ছাত্রলীগ পরিচয়দানকারী নঈম। এ বিষয় স্থানীয় চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ করলে ক্ষিপ্ত হয়ে নঈম তাদের ওপর এ হামলা চালায় বলে জানান তারা।
হাসপাতালে বেডে শুয়ে থাকা আহত ডেন্টিস্ট শফিক জানান, ‘আমি স্পষ্ট দেখতে পেয়েছি সন্ত্রাসীরা ধারালো কিরিচ নিয়ে আমাদের ওপর হামলা করতে ধেয়ে আসছে কিন্তু এর পর আর কিছু জানিনা। পরে হাসপাতালে বিছানায় দেখলাম আমার শরীরে অনেকগুলো কোপের আঘাত। শুধু তাদের ওপর হামলা করেই ক্ষান্ত হননি তার মাকেও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেছে। আমরা দুই ভাইয়ের মোটরসাইকেলে ভাঙচুর করেছে।’ আহত ব্যাংক কর্মকর্তা মুনিরুল ইসলাম জানান, ‘সন্ত্রাসী নঈম পেকুয়ার আরেক ‘নয়ন বন্ড’। সে যেভাবে আমাকে ও আমার ভাইকে কুপিয়েছে তা ভিডিও করে রাখতে পারলে দেশবাসী দেখতে পারত।’
এ বিষয়ে পেকুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ জাকির হোসেন ভূঁইয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘আমরা ঘটনার কথা শুনেছি তবে এখনো লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেবো।’
এ ঘটনায় আহতারা হলেন- ব্যাংক কর্মকর্তা মুনিরুল ইসলাম (৪০), ডা: শফিকুল ইসলাম (২৮), মো: ইউনুছ (৪৫), জামিলা আক্তার (৫৫), হাফসা বেগম (৩০)। আহতদের পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে আহতপক্ষ।