সারা দিনে একটু একটু করে বাইরে যাই। একটু হাঁটাহাঁটি আর কি! আরে সময়-ই তো পাই না বাইরে ঘুরতে। যাবো আর কই ? বাসার সামনে একটু হাঁটি। আর এ জন্যই তো আজ মায়ের সাথে ভাইবোনসহ আসলাম এখানে।
কথাগুলো ছোট্ট শিশু আরহামের। আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুলের ক্লাস ওয়ানের ছাত্র সে। তার বাবা মাকসুদুর রহমান, একজন ঊর্ধŸতন সামরিক কর্মকর্তা। তবে ছোট্ট শিশু আরহাম করিম রহমান এসেছে মায়ের সাথে ভাইবোন নিয়ে মানিক মিয়া এভিনিউতে।
গতকাল মানিক মিয়া এভিনিউতে আয়োজন করা হয় গাড়িমুক্ত রাস্তা। আর তাতেই কয়েক শত শিশু ছুটে আসে এমন একটি পরিবেশে ছোটাছুটি করতে। ক্ষুদ্র পরিসরে এমন তাৎপর্যপূর্ণ আয়োজন পেয়ে ইটপাথরের মোড়া রাজধানীতে বেড়ে ওঠা শিশুরা দারুণ উপভোগই করছিল। কেউ উড়াচ্ছিল বেলুন, ঘুড়ি। কেউ অতটুক জায়গা পেয়ে এপার থেকে ওপারে ছেটিাছুটি করছিল। আর কেউ মনে হচ্ছে এমন মুক্ত পরিবেশ পেয়ে কি করবে ভেবেই উঠতে না পেরে বাবা-মায়ের হাত ধরে ঘোরাঘুরি করছিল।
ডা: মাহফুজুর দাইয়ান খান নিয়ে এসেছেন তার সন্তান মাহির দাইয়ানকে গাড়িমুক্ত রাস্তা দেখাতে। ক্লাস ফোরের ছাত্র সে। মোহাম্মদপুর মডেল স্কুলের ছাত্র সে। তবে ডা: মাহফুজুর দাইয়ান জানান বড় ধরনের ছুটি পেলে তার এ সন্তানকে গ্রামের বাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রকৃতির ছোঁয়ার পাশাপাশি পারিবারিক মধুর বন্ধনে তাকে রাখার চেষ্টা করা হয়। ভেঙে যাক বন্ধনে যত খোয়াড়, গাড়িমুক্ত রাস্তায় ছুটুক আনন্দের জোয়ার এমন সেøাগানে বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস উপলক্ষে এ আয়োজনে মাহির বাবার হাত ধরে হাঁটাহাঁটি করলেও অনেকে রাস্তায় ম্যাট বিছিয়ে আপন মনে আকুবুকি করছিল। কেউ আবার আপন মনে গানও গাচ্ছিল দল বেঁধে। কেউ আবার এতটুকুন জায়গায় ক্রিকেট খেলে।
তবে এসব শিশুর পাশাপাশি তাদের অভিভাবকরা যেন কেমন আনমনা হয়ে উঠছিল রাজধানীতে এমন আয়োজন পেয়ে। আর তাই এ জন্য কেউ বলছিল এমন আয়োজন আরো চাই, আরো চাই! আরো চাই মুক্ত শৈশব।
ব্যস্ত শহরে শিশুদের সুষ্ঠু মানসিক বিকাশের জন্য ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন অর্থরিটির সাথে একত্র হয়ে ডিটারজেন্ট ব্র্যান্ড এক্সেল আয়োজন করে কার ফ্রি স্ট্রিট। ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্র্যান্ড সার্ফ এক্সেলের সাথে সহকারী কোনো প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় এমন শিশুবান্ধব উদ্যোগের আয়োজন এ প্রথম। সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত চলা এমন আয়োজনের ফাঁকেই হয়ে যায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আলোচনা। আলোচনায় অংশ নেন ইউনিলিভার বাংলাদেশের ফ্যাব্রিক সলিউসন্স ক্যাটাগরি হেড জিশান বায়েজিদ রহমান, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউশন অব মেন্টাল হেলথের ডিরেক্টর ডক্টর মোহিত কামাল, সেইভ দ্য চিলড্রেন অর্গানাইজেশনের ডেপুটি ডিরেক্টর সৈয়দ মাতিন হাসান ও ডিটিসিএ অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি জাকির হোসেন মজুমদার।