ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত বাংলাদেশী বাবুল মিয়ার (২২) লাশ ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা ধীরে ধীরে কমছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) আন্তরিকতার অভাবেই এ আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে অভিযোগ ওঠেছে। বাবুল মিয়া নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ঝাড়সিংহেশ্বর গ্রামের নুর মোহাম্মদের দ্বিতীয় ছেলে।
নিহতের পরিবারের দাবি, ৪ সেপ্টেম্বর ভোররাতে ভারতীয় গরু আনার জন্য বাংলাদেশের অভ্যন্তরে তিস্তা নদীর চরে যান বাবুল মিয়া। এ সময় ভুলে সীমান্তের ওপারে ঢুকে গেলে ভারতের উড়াল বিওপি ক্যাম্পের বিএসএফ তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই বাবুল মিয়া নিহত হন। এর পরপরই বিএসএফ বাবুল মিয়ার লাশ তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যায় এবং পরে কোচবিহার জেলার কুচলিবাড়ি থানা পুলিশ নিহতের লাশের ময়নাতদন্ত শেষে হাসপাতালের হিমঘরে রাখে।
ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই ইউপি চেয়ারম্যান প্রভাষক আব্দুল লতিফ খান বলেন, ঘটনার পরের দিন ৫ সেপ্টেম্বর থানারহাট বিওপি ক্যাম্পে রংপুর-৫১ বিজিবির কমান্ডিং অফিসারের (সিও) সাথে দেখা করে লাশটি ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছি; কিন্তু তিনি এ ব্যাপারে নেতিবাচক বক্তব্য দিয়েছেন। এর পরেও ছেলের লাশ ফিরে পাওয়ার জন্য বাবুলের মা-বাবা ৮ সেপ্টেম্বর ডিমলা ইউএনওর মাধ্যমে রংপুর-৫১ বিজিবির কমান্ডিং অফিসারের কাছে একটি আবেদন করেছেন। এ ব্যাপারে ডিমলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুন নাহার বলেন, বিজিবি তো আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নয়, আমি ওই দরখাস্তের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারি না। এমতাবস্থায়, বিএসএফের গুলিতে নিহতের লাশ ফিরে পেতে বিজিবির সহযোগিতা চেয়ে ১০ সেপ্টেম্বর বিকেলে ডিমলা উপজেলার সীমান্তবর্তী কালীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে নিহতের পরিবারসহ ওই এলাকার পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে অংশ নিয়ে বাবুলের মা আছিয়া খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, বিএসএফ ছেলেকে গুলি করে মারছে বলে ছেলের লাশটাও কি আমরা পাবো না? আমরা আমাদের ছেলের লাশ ছাড়া আর কিছু চাই না। আমাদেরকে লাশ এনে দেয়ার ব্যাপারে বিজিবির সহযোগিতা কামনা করছি।
স্থানীয়রা বলেন, ৫১ বিজিবির তত্ত্বাবধানে ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই সীমান্তে ভারতীয় গরুর একটি বিট খাটাল রয়েছে। প্রতিদিন শত শত ভারতীয় গরু এখানে আসে। এসব গরু কি নিজে থেকে বিট খাটালে এসে ঢুকে নাকি মানুষ নিয়ে আসে। ওপারের গরু ব্যবসায়ীরা এসব গরু এপারের গরু ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে না দিলে এরা গরু পাবে কোথায়? আর এ গরু আনতে গিয়ে বিএসএফ ভারতীয়দের গুলি না করে শুধু বাংলাদেশীকে গুলি করে হত্যা করছে; কিন্তু বিজিবির পক্ষ থেকে এসব হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদও করা হচ্ছে না। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, কয়েক দিন আগে বিএসএফ বাবুল মিয়াকে গুলি করে হত্যা করে লাশ নিয়ে গেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদ তো দূরের কথা, বিএসএফের গুলিতে নিহত বাবুল মিয়ার লাশটি গ্রহণ করতেও বিজিবি অনীহা প্রকাশ করেছে, যা সম্পূর্ণ অমানবিক ও বেদনাদায়ক। তাদের মতে, বিজিবির আন্তরিকতার অভাবেই বিএসএফের গুলিতে নিহত বাবুল মিয়ার লাশ পাওয়ার সম্ভাবনা ধীরে ধীরে ক্ষীণ হচ্ছে।
এ ব্যাপারে মোবাইল ফোনে রংপুর-৫১ বিজিবি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করে বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিজিবির আন্তরিকতা না থাকার অভিযোগ
বিএসএফের গুলিতে নিহতের লাশ পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত বাংলাদেশী বাবুল মিয়ার (২২) লাশ ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা ধীরে ধীরে কমছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) আন্তরিকতার অভাবেই এ আশঙ্কা...



