নওগাঁর রাণীনগরে একটি বাল্য বিয়ের দাওয়াত খেতে এসে কালীগ্রাম ইউনিয়ন নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) হেলাল উদ্দীনকে ৫০ হাজার এবং মেয়ের দুই আত্মীয়কে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। সোমবার উপজেলার ভেটি গ্রামে এঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সুত্রে জানা যায়, ভেটি গ্রামের দুলাল হোসেনের ৯ম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়েকে গত ১৫-২০ দিন আগে এফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ে দেয় । এর পর গত সোমবার ধুমধামের সহিত বিয়ে তুলে দিতে আয়োজন করে। সেই ধারাবাহিকতায় দুলাল হোসেন সমাজের এবং আত্মীয় স্বজনদের দাওয়াত করে। সেই অনুসারে সোমবার দুপুরে দাওয়াত খেতে আসেন একই গ্রামের নিকাহ রেজিস্ট্রার হেলাল উদ্দীন এবং মেয়ের আত্মীয় স্বজনরা। এসময় বাল্য বিয়ের আয়োজনের খবর পেয়ে রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুন থানা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে অভিযান পরিচালনা করে নিকাহ রেজিস্ট্রার ও মেয়ের দুই আত্মীয়কে আটক করে নিয়ে আসে। এর পর ভ্রাম্যমান আদালতে বসিয়ে নিকাহ রেজিস্ট্রার হেলাল উদ্দীনকে (৪৮) ৫০ হাজার এবং মেয়ের দুই আত্মীয় জাহিদুল ইসলাম (৩৩) ও জাহিদ হাসানকে (৩১) পাঁচ হাজার টাকা করে দুই ভাইয়ের ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এ ব্যাপারে নিকাহ রেজিস্ট্রার হেলাল উদ্দীন সাংবাদিকদের জানান, প্রায় ১৫-২০ দিন আগে ওই বিয়ে সম্পন্ন করেছে মেয়ের বাবা। কে বিয়ে পড়িয়েছে বা রেজিস্ট্রি করেছে সেটা আমার জানা নেই বা ওই বিয়ের সাথে আমার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। তিনি ওই দিন শুধুমাত্র দাওয়াত খেতে এসেছিলেন। এসময় তাকে আটক করে ভ্রাম্যমান আদালতে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন । নিকাহ রেজিস্ট্রার একই গ্রামের মৃত রিয়াজ উদ্দীনের ছেলে ।

ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুন বলেন, বাল্য বিয়ে হচ্ছে এমন সংবাদ পেয়ে সেখানে অভিযান চালিয়ে নিকাহ রেজিস্ট্রার হেলাল উদ্দীনসহ তিন জনকে আটক করে ভ্রাম্যমান আদালতে মোট ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে ব্যস্ততার কারণে নিকাহ রেজিস্ট্রার হেলাল উদ্দীনের বিয়েতে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে স্পস্ট করে কিছু বলতে পারেননি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ।