পদ্মায় হঠাৎ পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতের কারণে রাজবাড়ী শহর রক্ষা বাধের গোদার বাজার এলাকার প্রায় ৭০ থেকে ৮০ মিটার অংশ নদী গর্ভে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলা না হলে যে কোনো মুহূর্তে জেলার একমাত্র বিনোদন স্পট গোদার বাজার ও শহর রক্ষাকারী বাঁধ নদীতে সম্পূর্ণ বিলীন হবার সম্ভাবনা রয়েছে।
গত বছর বর্ষা মৌসুমে ক্ষতিগ্রস্ত রাজবাড়ীর গোদার বাজার এলাকায় শহর রক্ষাবাঁধ ফেজ-১ এর সংস্কার কাজ এখনও চলছে। কিন্তু এরই মধ্যে এনজিএল ইটভাটা সংলগ্ন স্থানে পুনরায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে ভাঙ্গন আতংকে রয়েছে রাজবাড়ী সদর উপজেলা নদীর তীরবর্তী তিনটি সরকারি প্রাথমিক স্কুলসহ বহু স্থাপনা ও পাঁচ শতাধিক বসত বাড়ি।
গত সোমবার সকালে ভাঙন দেখা দিলেও বিকেল পর্যন্ত তা রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) আজ মঙ্গলবার জরুরী ভিত্তিতে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করেছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নদীর তীরবর্তী তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষসহ স্থানীয়রা।
আজ মঙ্গলবার সরজমিনে গিয়ে দেখাযায়, গত বছরের বর্ষা মৌসুমে গোদার বাজারের ঘাট বিনোদন স্পট ও ইটভাটা এলাকায় রাজবাড়ী শহর রক্ষা বাঁধ ফেজ-১ এর ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে সংস্কার করা হয়। সেই সংস্কার করা অংশের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ মিটার সোমবার সকালে হঠাৎ করে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া ভাঙন স্থানের আশপাশে বড় বড় ফাটল রয়েছে। সেই সঙ্গে নদীতে রয়েছে তীব্র স্রোত। ফলে ভাঙন আতঙ্কে আছেন ভাটা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়রা।
ইটভাটার শ্রমিকরা বলেন, সকালে হঠাৎ ভাটার পাশে ফাটল দেখা দিলে তারা স্তুপ করে রাখা ইটগুলো সরানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। অল্প কিছু সরাতে পারলেও অনেক ইট নদীতে চলে গেছে। ভাটা না থাকলে তারা বেকার হয়ে পড়বে। তাই দ্রুত গতিতে ভাঙন রোধে কাজ শুরু করতে পাউবোর প্রতি অনুরোধ জানান তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা আলামিন মোস্তফা বলেন, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শহর রক্ষাকারী বাঁধের প্রায় ৭০ মিটার মুহূর্তের মধ্যে নদীতে বিলীন হয়ে যায়। ভাঙনের পর পাউবোকে বিষয়টি জানালেও বিকেল পর্যন্ত কেউ আসেননি। দ্রুত কাজ শুরু না হলে রাতের মধ্যে গোদার বাজার বিনোদন স্পট অংশ ভাঙনের কবলে পড়বে। এছাড়া ভাঙনে হুমকির মুখে পড়বে শহর রক্ষা বাঁধ। তাই জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলাসহ যথাযথ প্রদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান তিনি।
জেলা পাউবো কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, গত কয়েকদিন ধরে পদ্মায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে দেখা দিয়েছে তীব্র স্রোত। যার কারণে শহর রক্ষা বাঁধের গোদার বাজার এলাকার প্রায় ৩০ মিটার অংশ নদীতে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের পর ক্ষতিগ্রস্ত স্থান পরিদর্শন করেছেন এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেখানে জিও ব্যাগ কাজ শুরু করা হবে।
এদিকে পদ্মায় পানি বৃদ্বি অব্যাহত থাকায় ফেরি চলাচলে গ্যাংওয়ে সম্পূর্ণ তলিয়ে যাওয়ায় জৌকুড়া-নাজিরগঞ্জ নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ রাজবাড়ী কার্যালয়। এতে ভোগান্তিতে পরেছেন হাজারোও যাত্রী।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ রাজবাড়ীর কার্যালয় সুত্রে জানাযায়, হঠাৎ করে পদ্মায় পানি বৃদ্ধির ফলে রাজবাড়ীর জৌকুড়া ঘাটের পল্টুনটি তলিয়ে যায়। এছাড়াও তীব্র স্রােতের মোকাবেলা করে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল ব্যঘাত হওয়ায় রোববার সকাল থেকেই বন্ধ রাখা হয়েছে জৌকুড়া- নাজিরগঞ্জ নৌরুটের লঞ্চ ও ফেরি চলাচল।
কার্যালয়টি আরো জানায়, এই নৌরুট দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করে দুটি ফেরি, দুটি লঞ্চ ও ১০ থেকে ১২ টি ইঞ্জিন চালিত ট্রলার। এই নৌযানগুলো দিয়ে প্রতিদিন, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ ও নাটোর জেলার অন্তত ১৫ হাজার মানুষ ও যানবাহন পারাপার করা হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, রাজবাড়ীর জৌকুড়া ঘাটে পল্টুনটির অর্ধেকটা তলিয়ে গেছে। পল্টুনে উঠতে হচ্ছে হাটু সমান পানি মাড়িয়ে। ফেরি বন্ধ থাকায় জীবনের ঝুকি নিয়ে ইঞ্জিন চালিত ট্রলারে পার হচ্ছে যাত্রীরা।
এ সময় পাবনা জেলার বাসিন্দা আব্দুল খালেক মিয়া বলেন, রাজবাড়ী ও পাবনা জেলার সংযোগ স্থল এই ঘাট। আমরা বেশির ভাগ সময় মোটর সাইকেল নিয়ে চলাফেরা করি। ফেরি বন্ধ থাকায় ট্রলারে মোটর সাইকেল পার করতে হচ্ছে। ট্রলারে মোটর সাইকেল উঠাতে ও নামাতে কষ্ট হচ্ছে।
জৌকুড়া ঘাট এলাকার বাসিন্দা আবু সাইদ জানান, এই ঘাটটি বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপদে পরেছে পণ্যবাহী ট্রাকের চালকের। তাদের কুষ্টিয়া জেলা হয়ে পাবনায় যেতে হচ্ছে। এতে অন্তত ১০০ কিলোটিার পথ বেশি ঘুরে কুষ্টিয়ার লালন শাহ সেতু দিয়ে যেতে হচ্ছে। এছারা ঘাটটি বন্ধ থাকায় ঘাট এলাকার অর্ধশত মুদি দোকান প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে।
জৌকুড়া ঘাটের মুদি দোকানী হাসনা হেনা জানান, জৌকুড়া নাজিরগঞ্জ ঘাট বন্ধ তাই এই রুটে যাত্রী আসছে অর্ধেক। আগে যেখানে দৈনিক এক হাজার থেকে বারো শত টাকা বিক্রি হতো এখন পাচশত টাকা বিক্রি করতেই কষ্ট হচ্ছে।
জৌকুড়া নাজিরগঞ্জ নৌরুটে তত্বাবধানে রয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ রাজবাড়ী। এই কার্যালয়ের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী আশিকুল ইসলাম বলেন, পদ্মায় পানি বৃদ্ধির ফলে বন্ধ রাখা হয়েছে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল। পানি কমে গেলেই শুরু হবে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল। এ ব্যপারে জন সাধারনের ভোগান্তি কমাতে ঘাট বন্ধের একটি গন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।



