পদ্মা নদীতে হঠাৎ করে আবারো পানি বেড়ে তীব্র স্রোতের সৃষ্টি হয়েছে। এতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরিগুলোর স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সেই সাথে রয়েছে ফেরি সংকট। স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরিগুলো ঘাট ছাড়ার পর গন্তব্যে পৌঁছতে সময় লাগে ২৫ থেকে ৩০ মিনিট। এখন লাগছে এক ঘণ্টারও বেশি। ফলে উভয় ঘাটে নদী পারের অপেক্ষায় আটকে পড়ছে শত শত যানবাহন। পানি বেড়ে নিমজ্জিত হয়েছে দৌলতদিয়ার ৫নং ঘাটের পন্টুন।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট অফিস ও অন্য সূত্র জানায়, কয়েক দিনে আরেক দফা পানি বৃদ্ধি পেয়ে পদ্মা-যমুনায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র স্রোত। প্রচন্ড স্রোতের বিপরীতে রুটের ফেরিগুলোর চলাচল অস্বাভাবিক হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত রুটে ১৪টি ফেরি চলাচল করেছে। এর মধ্যে আটটি বড় ও ছয়টি ছোট ফেরি। রুটের ‘সন্ধ্যামালতি’ ফেরিটি বিকল হয়ে স্থানীয় কারখানায় এবং বড় ফেরি ‘আমানত শাহ’ নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ডে মেরামতে আছে। ফেরি ‘শাপলা-শালুক’ পরীক্ষামূলক চলাচলের জন্য জামালপুরের বাহাদুরাবাদ ঘাটে রয়েছে।

আজ বুধবার সকাল ১১টা পর্যন্ত দৌলতদিয়া ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে বাংলাদেশ হ্যাচারি পর্যন্ত ছিল তিন কিলোমিটার যানজট। ঘাট এলাকার আড়াই কিলোমিটার ফোর লেন সড়কের বাম পাশে আটকে ছিল তিন শতাধিক যানবাহন।

এদিকে পদ্মার নতুন করে পানি বৃদ্ধির কারণে রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। কালুখালী এলাকায় পদ্মার পানি এখন বিপদ সীমার দুই ফুট উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে উপজেলা শিক্ষা অফিস দুটি স্কুলে পাঠদান সাময়িক বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। তবে বন্যার পরিস্থিতির অবনতি হলেও এখনো দুর্গত এলাকায় কোনো প্রকার ত্রাণসামগ্রী বিতরণ শুরু হয়নি বলে জানালেন বন্যাদুর্গত এলাকার বাসিন্দরা।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুর রশিদ জানায়, বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় কৃষ্ণনগর চড়ের আব্দুল কুদ্দুস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কৃষ্ণনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। চরাঞ্চলের হরিনবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও হরিনাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবস্থাও ঝুঁকিপূর্ণ। তবে বিদ্যালয় দুটির পাঠদান এখন অব্যাহত আছে।

বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় খাদ্য সংকটে দিন কাটছে মাধবপুর, হরিনবাড়ীয়া, লস্করদিয়া, কৃষ্ণনগর, ভবানীপুর, হরিনাডাঙ্গা, চররাজপুর, বিজয়নগর, নারানপুর, আলোকদিয়া, বল্লভপুর, ভাগলপুর, বাগঝাপা, গংগানন্দপুর, কামিয়া, কালুখালী, পাড়াবেলগাছী ও গতমপুর গ্রামবাসীর। এসব গ্রামের অনেকের বাড়ির উঠানে পানি।

কালুখালীর রতনদিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম হড়িনবাড়ীয়া মৌজার চামেলি বেগম, জিন্নাহ আলী, জাহাঙ্গীর, আরব, হারুন, কদম, কামরুল, মজিবর, মজিদ, ভুট্টো, আক্কাসআলী, জহুরুল, হালিম, জব্বার, বাবলু, সিদ্দিক, বান্দু, সেলিম, এলেম, বাতেন, আলী, আইনদ্দিন, জামাল, সোবাহান, রাসেদ, আকেল, মালেকা, আলাল, শান্ত, পিন্টুসহ শতাধিক মানুষ জানান, পাঁচ দিন ধরে পানিবন্দি অবস্থায় থাকলেও এখনো কোনো ত্রাণ পাইনি। ঘরে সঞ্চিত খাবার শেষ হয়ে গেছে ।