সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে জনবলসঙ্কটের কারণে দাফতরিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলা শিক্ষা অফিসে অনুমোদিত আটটি পদের মধ্যে পাঁচটি পদই শূন্য রয়েছে। উপজেলার ২৩৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় তদারকির দায়িত্বে রয়েছেন মাত্র একজন উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও তিনজন সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার (এটিইও)। উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসারের অভাবে নিয়মিত বিদ্যালয় পরিদর্শন না হওয়ায় এগুলোর কার্যক্রম ঠিকমতো চলছে না বলেও জানা গেছে। এ ছাড়া চলমান উন্নয়নমূলক কাজ সঠিক সময়ে দেখভাল করাও সম্ভব হচ্ছে না।
কাজিপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, একটি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়নে মোট ২৩৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এতে অনেক বেগ পেতে হচ্ছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ছুটিতে গেলে সব কাজ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে কাজ করতে এসে শিক্ষকরা ভোগান্তিতে পড়েন। বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা জানান, উপজেলার স্কুলগুলো নিয়ে আটটি ক্লাস্টার ও ৩২টি সাবক্লাস্টার গঠিত। তিন মাস পর প্রধান শিক্ষকদের নিয়ে সাবক্লাস্টার মিটিং ও প্রতি মাসে একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু উপজেলার বেশির ভাগ এটিইওর (সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার) পদ শূন্য থাকায় সমন্বয় সভা ও ক্লাস্টার মিটিংয়ে কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জিত হচ্ছে না। বিশেষ করে এটিইও সঙ্কটে স্কুল পরিদর্শন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তিনি বলেন, বর্তমানে একজন এটিইও প্রতি মাসে মাত্র ১০-১২টি বিদ্যালয় পরিদর্শন করতে পারছেন। অথচ সব পদে কর্মকর্তা থাকলে প্রতি মাসে ৮৫টি স্কুল পরিদর্শন করা সম্ভব হতো।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান সিরাজী বলেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো শূন্য থাকায় অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
কাজিপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আমজাদ হোসেন জানান, ৭১ জন প্রধান শিক্ষক, ২২২ জন সহকারী শিক্ষক, অফিস সহকারী একজন, হিসাবরক্ষক একজন ও পিয়ন একজনের পদ শূন্য রয়েছে। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।



