রাজশাহীর বাগমারায় শাশুড়িকে মা সাজিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে অর্ধকোটি টাকার সম্পত্তি রেজিস্ট্রি (নিবন্ধন) করে নেয়ার অভিযোগ গত সোমবার থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। এ মামলায় দলিল লেখকসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতরা হলেন দলিল লেখক (মহুরি) রফিকুল ইসলাম মডি, জমি গ্রহীতা আক্কাছ আলী, তার স্ত্রী রেহেনা বেগম ও শাশুড়ি ভুয়া দাতা চন্দ্রভান বেওয়া। তারা পুলিশের কাছে জালিয়াতির বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের পলাশী গ্রামের আক্কাছ আলী সোমবার দলিল লেখক রফিকুল ইসলাম মডির মাধ্যমে বাগমারা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে আসেন। তিনি জমির দাতা হিসেবে মা রাহেলা বেওয়ার (৭৫) ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি সংযুক্ত করেন দলিলে। রাহেলা বেওয়া তিন লাখ ৮৪ হাজার টাকায় তার কাছে ৩৯ শতক জমি বিক্রি করছেন বলে দলিলে উল্লেখ করা হয়। তবে জমি নিবন্ধনের সময় জমির দাতা হিসেবে আক্কাছ আলী তার শাশুড়ি চন্দ্রভানকে সাব-রেজিস্ট্রারের সামনে হাজির করেন।
এ সময় দাতা হিসেবে রাহেলা বেওয়ার পরিবর্তে চন্দ্রভানের টিপসহি নিয়ে দলিলটি নিবন্ধন সম্পন্ন করেন সাব-রেজিস্ট্রার। ঘটনাটি জানাজানি হলে বিকেলে প্রকৃত রাহেলা বেওয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে এসে অভিযোগ দেন। পরে দলিল লেখক সমিতির নেতারা অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় এ ঘটনার সাথে জড়িত ভুয়া দাতা চন্দ্রভান বেওয়া ও গ্রহীতা আক্কাছ আলীকে আটক পুলিশে সোপর্দ করেন।
বাগমারা থানার ওসি আতাউর রহমান বলেন, এ ঘটনায় রাতে থানায় মামলা দায়েরের পর দলিল লেখক রফিকুল ইসলাম মডি এবং জমি গ্রহীতা আক্কাছ আলীর স্ত্রী রেহেনা বেগমকেও আটক করা হয়েছে। আটককৃত দলিল লেখকসহ চারজনকেই এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে গত মঙ্গলবার জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।