আগ্রাসী হয়ে ওঠা প্রমত্তা পদ্মার তীব্র স্রোতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় স্বাভাবিকভাবে চলতে পারছে না নৌযান। এই রুটে নৌ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় গত শুক্রবার দুপুর ১টা থেকে সব ধরনের লঞ্চ ও ট্রলার চলাচল বন্ধ রয়েছে । পদ্মার পানি সামান্য কমার পর স্রোতের তীব্রতা আরো বেড়ে যাওয়ায় এবার শনিবার দুপুর থেকে এরুটে ফেরি চলাচলও বন্ধ হয়ে গেছে।
শনিবার দুপুর পৌনে ২টা থেকে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ার সবগুলো ঘাটে ছোট-বড় সব ধরণের ফেরি চলাচল বন্ধ করে ফেরিগুলো নোঙর করা হয়।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট ব্যাবস্থাপক (বাণিজ্য) আবু আব্দুল্লাহ রনি শনিবার এ তথ্য নিশ্চি করে জানান, স্রোতের কারণে সব পারাপার বন্ধ থাকলেও শুধু মাত্র চারটি ছোট ইউটিলিটি ফেরি দৌলতদিয়া প্রান্তে প্রস্তুত রাখা হয়েছে, ভিআইপি, রোগীবাহী এ্যম্বুলেন্স ও যাত্রী পারাপার ও নৌ দূর্ঘটনায় জরুরী উদ্ধার কাজের জন্য।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট ব্যাবস্থাপক (বাণিজ্য) আবু আব্দুল্লাহ রনি শনিবার সকালে জানান, তীব্র স্রোতে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে শুক্রবার দৌলতদিয়া ১নং ফেরি ঘাট নদী ভাঙনের কবলে পড়ে পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া ২নং ফেরি ঘাটও যে কোনো সময় নদীতে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন ঘাট কর্তৃপক্ষ। ফলে দৌলতদিয়া প্রান্তে নদী পারের অপেক্ষায় সড়কে আটকা পড়েছে শত শত পণ্যবাহী ট্রাকসহ অসংখ্য যানবাহন।
পদ্মায় তীব্র স্রোত ও ভয়াবহ নদী ভাঙনের কবলে পড়ে যানবাহন পারাপারে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে দেশের ব্যাস্ততম নৌপথ দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায়। এরই মধ্যে ভাঙনের কবলে পড়ে বন্ধ হয়ে গেছে দু’টি ফেরি ঘাট। বাকি চারটি ঘাটে ফেরি ভিড়তে না পারায় শনিবার থেকে তাও বন্ধ করেছে ফেরি কর্তৃপক্ষ।
তবে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘন্টায় রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া গেজ স্টেশন পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি ৫ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। হঠাৎ পদ্মার পানি বৃদ্ধিতে জেলার প্রায় ১৪ হাজার পরিবার পানি বন্দী হয়েছে পড়েছেন। এছাড়া নদী ভাঙ্গন শুরু হয়েছে জেলার বিভিন্ন স্থানে।



