স্পর্শকাতর পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে নৌযান চলাচলে অচলাবস্থা এখনো কাটেনি। দৌলতদিয়া প্রান্তে পদ্মায় সৃষ্ট তীব্র স্রোত ও ভাঙনে ফেরি-লঞ্চ ভিরতে পারছে না। গতকাল বিকেলে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উভয় ঘাটে পারের অপেক্ষায় আটকে ছিল বিভিন্ন ধরনের সহস্রাধিক যানবাহন। যার মধ্যে পণ্যবাহী ট্রাকের সংখ্যাই বেশি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষমাণ ও ঘাটমুখী আসা যানবাহনগুলোকে বিকল্প পথ ব্যবহারের অনুরোধ জানিয়েছেন ঘাট কর্তৃপক্ষ।
ফেরি সংস্থা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন আরিচা এরিয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত ম্যানেজার জিল্লুর রহমান জানিয়েছেন, নদীর পরিস্থিতি বেসামাল। ফেরিগুলো স্রোতের বিপরীতে কোনোভাবেই চালানো সম্ভব হচ্ছে না। চলতি পরিস্থিতিতে এরুটে কয়েক দফা ফেরি চলাচল বন্ধ রাখতে হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতে দু-একটি ইউটিলিটি ফেরি ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।
পাটুরিয়ায় ‘মধুমতি’ নামে ফেরি মেরামত ভাসমান কারখানার নির্বাহী প্রকৌশলী স্বদেশ প্রসাদ জানিয়েছেন, বহরের ছোট বড় ১৬টি ফেরির মধ্যে দু’টি বিকল রয়েছে। বাকিগুলোর দু’চারটি স্রোতের বিপরীতে চলাচলে সক্ষম হলেও অধিকাংশ ফেরি বেশ পুরনো হওয়ায় চলাচল করতে পারছে না।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ বিআইডব্লিউটিএ আরিচা অঞ্চলের নৌনিট্রা বিভাগ সহকারী পরিচালক ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, পাটুরিয়া রুটের দৌলতদিয়া প্রান্তে তীব্র স্রোতে কোনো ফেরি-লঞ্চ ভিড়তে পারছে না। পরিস্থিতি বিবেচনায় সিমিত আকারে ফেরি চলাচল করলেও দুর্ঘটনা এড়াতে লঞ্চ চলাচল সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে, লঞ্চ যাত্রীরা ফেরিতে পারাপার হচ্ছে।
একই সংস্থার প্রকৌশলী বিভাগের কর্মকর্তা শাহ-আলম জানিয়েছেন, পাটুরিয়া প্রান্তে সবগুলো ঘাট ঠিক থাকলেও স্রোতের তোরে দৌলতদিয়া প্রান্তে ছয়টি ঘাটের দু’টি ভাঙনের শিকার হয়েছে। অপর আরো দু’টি ঘাট ঝুঁকিতে রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রকৌশলী বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, ভাঙন রোধ ও ঘাট সচল রাখতে দৌলতদিয়া পয়েন্টে জরুরি ভিত্তিতে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।
এ দিকে মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পাটুরিয়া ঘাটমুখী সব ধরনের যানবাহনকে বিকল্প পথ ব্যবহারের অনুরোধ করা হয়েছে।



