পাওনা আদায় নিয়ে সরকারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির সাথে দুই শীর্ষ মোবাইল ফোন অপারেটরের বিরোধ সুরাহার কোনো অগ্রগতি হয়নি। বিরোধ সমাধানে অর্থমন্ত্রীর আশ্বাসের পরও ইতোমধ্যে লাইসেন্স বাতিল বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে বিটিআরসির নোটিশের জবাব দিয়েছে দুই অপারেটর গ্রামীণফোন ও রবি। চিঠিতে আদালত ও আইনের রেফারেন্স দিয়ে বিটিআরসির এ প্রক্রিয়াকে অন্যায্য হিসেবে উল্লেখ করে নিজেদের অনড় অবস্থানের কথা জানিয়ে দিয়েছে অপারেটর দু’টি।
অপারেটর দু’টির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অর্থমন্ত্রীর আশ্বাসের পর বিটিআরসি তাদের দেয়া লাইসেন্স বাতিলের শোকজটি প্রত্যাহার করে নেবে বলে অপেক্ষায় ছিলেন অপারেটর দু’টির শীর্ষ নির্বাহীরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রত্যাহার না হওয়ায় আইনি বাধ্যবাধকতার জন্য চিঠির জবাব দিতে বাধ্য হয়েছেন তারা।
এর আগে প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা বকেয়া পাওনা আদায়ের তৃতীয় ধাপ হিসেবে গ্রামীণফোন ও রবির টুজি ও থ্রিজি লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় বিটিআরসি। গত ৫ সেপ্টেম্বর পাঠানো এ নোটিশের জবাব দিতে এক মাসের সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয় অপারেটর দু’টিকে।
বিটিআরসির ওই দাবিকে শুরু থেকেই ত্রুটিপূর্ণ বলে আসছিল অপারেটর দু’টি। দুই পক্ষের বিরোধের একপর্যায়ে গ্রামীণফোন ও রবির এনওসিও বন্ধ করেন দেয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করেন অপারেটররা। পরে সরকারের হস্তক্ষেপে খানিকটা নমনীয় হয় বিটিআরসি।
বকেয়া আদায়ে নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা থেকে সরে এসে আলোচনায় বসার কথা জানায় সরকার। গত ১৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, বিটিআরসি চেয়ারম্যান জহুরুল হক, এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া ও অপারেটর দু’টির শীর্ষ নির্বাহীদের উপস্থিতিতে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক থেকে অপারেটর দু’টি বিটিআরসির বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার করে নেবে বলে জানানো হয়। দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে বকেয়া পাওনা আদায়ের বিষয়ে সমাধান হবে বলেও ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী। তবে ওই ঘোষণার পরও গতকাল পর্যন্ত তেমন কোনো অগ্রগতি লক্ষ্য করা যায়নি। লাইসেন্স বাতিলের নোটিশ প্রত্যাহার না করায় গ্রামীণফোন ও রবি গত ৩ অক্টোবর এর জবাব দেয়।
সূত্র মতে, কারণ দর্শাও নোটিশ প্রাপ্তির ৩০ দিন বাকি থাকার একদিন আগে বিটিআরসিকে নোটিশের জবাব দেয় গ্রামীণফোন ও রবি। যদিও ওই দিন গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে বারবার জানতে চাওয়া হলেও এ বিষয়ে তারা কোনো মন্তব্য করেনি। একইভাবে বিটিআরসির পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, বিটিআরসির শোকজের জবাবে দেয়া চিঠিতে অপারেটর দু’টি প্রথমটিতে আদালত ও দ্বিতীয়টিতে আইনের রেফারেন্স দিয়েছে।
অপারেটর দু’টি জানিয়েছে, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন তাই এই বিষয়ে বিটিআরসি এমন কারণ দর্শানো নোটিশ দিতে পারে না। তারা আরো বলছে, টেলিযোগাযোগ আইনের ২৬ ধারা বাদ দিয়ে ৪৬ ধারায় চলে গেছে বিটিআরসি। ২৬ ধারা অনুযায়ী পাবলিক ডিমান্ড রিকভারি (পিডিআর) অ্যাক্টে পাওনা আদায়ে মামলা করতে পারত বিটিআরসি। সেটি না করে ৪৬ ধারায় লাইসেন্স বাতিলের মতো পদক্ষেপে চলে গেছে নিয়ন্ত্রণ সংস্থা। এখানে অন্য লাইসেন্সিংয়ের মতো আচরণ তাদের সাথে করা হয়নি বলে জানিয়েছে অপারেটর দু’টি।
এ ব্যাপারে রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম বলেছেন, ‘বিতর্কিত নিরীক্ষা আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে বিটিআরসি আমাদের কাছে যে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছে তার আইনগত কোনো ভিত্তি নেই। কারণ এ লিগ্যাল নোটিশ জারির আগেই আদালতে এ বিষয়ে একটি মামলা বিচারাধীন আছে। আর বিচারাধীন কোনো বিষয়ের ওপর কোনো মন্তব্য আমাদের পক্ষে করা সম্ভব নয়। তবে এ বিষয়ে আমরা আগে যা বলেছি নতুন করে তার ওপর কিছু বলার নেই।’
আর গ্রামীণফোন এক বিবৃতিতে জানায়, লাইসেন্স বাতিল সংক্রান্ত বিটিআরসির ভিত্তিহীন শোকজ নোটিশটি যেহেতু তুলে নেয়া হয়নি, সেহেতু গ্রামীণফোন তাদের প্রত্যুত্তর দাখিল করেছে।