কাতার ও মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে ছুটিতে আসা দুই প্রবাসী অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পরে সর্বস্ব হারিয়েছেন। তারা হলেন, নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার আমিরগঞ্জ ইউনিয়নের করিমগঞ্জ নয়াহাটি গ্রামের আবু নাছিরের ছেলে কাতার প্রবাসী কামরুজ্জমান নূর ও দড়ি বালুয়াকান্দি গ্রামের কাশেম মাষ্টারের ছেলে মালয়েশিয়া প্রবাসী আ: মোতালিব।
ভুক্তভোগী ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত ২টায় কাতার প্রবাসী কামরুজ্জামান নূর ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট থেকে নেমে সকালে বাড়ির উদ্দেশে টঙ্গি থেকে উত্তরা পরিবহনে নরসিংদীর ভেলানগরে আসার জন্য উঠেন।
এসময় সৌদি থেকে ছুটিতে আসা প্রবাসী পরিচয়ে একই সাথে উত্তরা পরিবহনে উঠে অজ্ঞান পার্টির দুই সদস্য। তারা নূরের পাশেই বসেন এবং নরসিংদীর সাহেপ্রতাব যাবেন বলে তারা নূরের সাথে আলাপচারিতায় বন্ধুত্বের বন্ধন তৈরী করেন। এমনকি সৌদি প্রবাসী পরিচয়দানকারী একজন আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা এবং নরসিংদী পুরাতন বাসস্ট্যান্ডের পাশেই বাসা বলে জানায়। তার স্ত্রীর সাথে ফোনে নতুন বন্ধু নূরকে কথা বলায় এবং বাড়িতে বেড়াতে যেতে অনুরোধ জানায়।
পাশের অন্যজন সৌদি প্রবাসী পরিচয়দানকারী সোহাগকে এয়ারপোর্ট থেকে নিতে এসেছে বলে জানায়। এরই মধ্যে সৌদি থেকে আনা দামী বিস্কুট ব্যাগ থেকে বের করে সোহাগ, নতুন বন্ধু নূরসহ তারা তিনজনই খান। বিস্কুট খেয়ে অজ্ঞান নূরের বিদেশ থেকে আনা তিনটি মোবাইল সেটসহ নগদ ডলার, মালামাল লাগেজ লুট করে সাহেপ্রতাপ এসে তারা নেমে পড়েন।
বারৈচা বাসস্ট্যান্ডে এসে তাকে বাসের হেলপার অজ্ঞান অবস্থায় নামিয়ে রেখে দেয়। পরে তাকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে তাকে ভর্তি করে চিকিৎসা করা হয়।
অপরদিকে, একই এলাকার মালয়েশিয়া প্রবাসী মোতালিব তিতাস বাসে এয়ারপোর্ট থেকে বাড়ি ফেরার পথে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়েন। তিনি সকাল ৫টায় এয়ারপোর্টে নেমে বাসে উঠেন। এসময় তাকে অজ্ঞান করে সাথে থাকা সব কিছু নিয়ে গেলেও বাসের বক্সে রাখা কিছু মালামাল ফিরে পান।
পূবাইলের কাছাকাছি এসে মোতালিব অজ্ঞান হয়ে ঢলে পড়লে তাকে বাস থেকে নামিয়ে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করানো হয়।
একই দিনে দুই প্রবাসীর দুই বাসে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ার ঘটনায় এলাকায় নানা আলোচনা চলছে।
এ ব্যাপারে রায়পুরা থানায় সাধারণ ডায়েরি করবেন বলে জানান কামরুজ্জামান নূরের বড় বোন ফাতেমা বেগম।






