সিডর, আইলা ও ফণী বিধ্বস্ত উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ভৈরবনগর দারুল উলুম বালিকা দাখিল মাদরাসা যোগ্য হয়েও এমপিওভুক্ত হতে পারেনি। একটি প্রতিষ্ঠানের এমপিও পাওয়ার ক্ষেত্রে যত ধরনের শর্ত প্রয়োজন, তার সবই ছিল মাদরাসাটির।
কৈখালী, ঈশ^রীপুর ও রমজাননগর ইউনিয়নের কেন্দ্রে মাদরাসাটি অবস্থিত। প্রায় দেড় লাখ জনবসতির এই এলাকায় এই মাদরাসাটি ছাড়া অন্য কোনো নারী প্রতিষ্ঠান নেই। ভৌগোলিক অবস্থানগত দিক থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি দুর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় হলেও ছাত্রীদের শিক্ষার মানের ক্ষেত্রে কখনো পিছিয়ে ছিল না। সুদক্ষ শিক্ষক-শিক্ষিকারা সুনামের সঙ্গে মাদরাসাটি পরিচালনা করে আসছেন। পাসের হারও শতভাগ। অতীতে এমপিও দেয়ার ক্ষেত্রে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। এবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার দায়িত্ব কাঁধে নেয়ায় অবহেলিত জনপদের যোগ্য এই মাদরাসাটির সংশ্লিষ্টরা আশায় বুক বেঁধে ছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিন পর এমপিওভুক্তির সুযোগবঞ্চিত হওয়ায় শিক্ষকদের পাশাপাশি ছাত্রীরা হতাশ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকার পাশাপাশি ছাত্রীরাও হতদরিদ্র। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তাদের আকুল আবেদন, বিশেষ বিবেচনায় এমপিওর আওতায় মাদরাসাটি অন্তর্ভুক্ত করে উপকূলীয় এলাকার হতদরিদ্র মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ অব্যাহত রাখা হোক।
সূত্র মতে, এবার সারা দেশের ২ হাজার ৭৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। সেখানে নারী শিক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা রাখা ভৈরবনগর দারুল উলুম বালিকা দাখিল মাদরাসা নেই। এমপিওভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যোগ্যতার মানদণ্ড কী হওয়া উচিত সে বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০১৮ সালে একটি নীতিমালা জারি করে। ভৈরবনগর দারুল উলুম দাখিল মাদরাসাটি এমপিওভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে শতভাগ যোগ্য। গত বছর অর্থাৎ ২০১৮ সালে দাখিল পরীক্ষায় ২১ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই কৃতকার্য হয়। অথচ এমপিওভুক্ত হওয়ার জন্য সরকারের শর্তে বলা আছে ৫০ শতাংশ উত্তীর্ণ হলেই প্রতিষ্ঠানটি এমপিওর যোগ্য হবে। এমপিওর নীতিমালায় একটি প্রতিষ্ঠানে ন্যূনতম ২০০ জন শিক্ষার্থী থাকার বিধান থাকলেও এ প্রতিষ্ঠানের বর্তমান ছাত্রী সংখ্যা ২৫৮ জন অর্থাৎ চাহিদার চেয়ে ৫৮ জন বেশি। আবার প্রতিষ্ঠানটি পাঠদানের অনুমতি লাভ করে ০১/০১/২০০৩ সালে এবং একাডেমিক স্বীকৃতি পায় ১/১/২০০৯ সালে।
অবহেলিত ও দারিদ্র্রপীড়িত জনপদে গড়ে ওঠা এমন একটি নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্তির জন্য বিবেচনায় না নেয়া সরকারি আদেশের সাথে সাংঘর্ষিক বলে এলাকাবাসী মনে করে। নারী কল্যাণে গড়ে ওঠা এ প্রতিষ্ঠানটিকে এমপিওভুক্তির জন্য প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ও সুদৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকাবাসী।