বানারীপাড়ায় আলোচিত ট্রিপল মার্ডারের প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত হয়েছে। পরকীয়া প্রেমের কারণে এ ট্রিপল মার্ডার বলে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা কুয়েত প্রবাসীর স্ত্রী মিশরাত জাহান মিশুকে রোববার গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নেয়ার নির্দেশ দেন আদালত। অপর দিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া প্রধান দুই ঘাতক জাকির ও জুয়েল আদালতের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। রোববার রাতে বরিশাল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো: এনায়েত উল্লাহ তাদের জবানবন্দী রেকর্ড শেষে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
র্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুই ঘাতকের মধ্যে রাজমিস্ত্রি জাকির হোসেনের সাথে পূর্ব থেকেই প্রবাসী হাফেজ আবদুর রবের স্ত্রী মিশরাত জাহান মিশুর পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বাড়িতে বিল্ডিং নির্মাণকাজ করতে গিয়ে তাদের মধ্যে এ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সম্পর্ক ধরেই পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী শুক্রবার দিবাগত রাতে সহযোগী জুয়েলকে নিয়ে প্রবাসীর ঘরে প্রবেশ করেছিল জাকির। তারা দু’জনে মিলেই প্রবাসীর মা ও ভগ্নিপতিসহ তিনজনকে হত্যা করে। প্রথমে তারা প্রবাসীর খালাতো ভাই ভ্যানচালক ইউসুফকে (২২) শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে প্রবাসীর মা মরিয়ম বেগমকে (৭৫) একইভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার সময় পাশের কক্ষে ঘুমানো শফিকুল আলম ঘুমের মধ্যে কাশি দিলে ঘাতকরা মনে করে সে বিষয়টি টের পেয়েছে। ফলে ধরা পড়ার ভয়ে তাকেও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
শনিবার সকালে ঘটনাস্থল থেকে রাজমিস্ত্রি জাকির হোসেন ও রাতে র্যাবের সহযোগিতায় তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে বরিশাল সদর উপজেলার কাগাশুরা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় জুয়েলকে।
জানা যায়, আসামিদ্বয় আদালতে জবানবন্দী দেয়ার পরে ঘটনার সাথে প্রবাসীর স্ত্রী মিশুর জড়িত থাকা এবং পরকীয়ার বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। এ কারণেই রোববার রাতেই মিশুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে পরামর্শ করে তিন আসামিকে রিমান্ডে আনা হতে পারে বলেও জানা গেছে।
উল্লেখ্য শুক্রবার দিবাগত রাতে বানারীপাড়ার সলিয়াবাকপুর গ্রামের হাওলাদার বাড়ির বাসিন্দা ও কুয়েতের একটি মসজিদের ইমাম হাফেজ আবদুর রবের মা মরিয়ম বেগম, ভগ্নিপতি ও সাবেক স্কুলশিক্ষক শফিকুল আলম এবং খালাতো ভাই ইউসুফকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এদিকে রোববার সকালে এ ঘটনায় প্রবাসী আবদুর রবের ছোট ভাই ঢাকায় এনআরবি ব্যাংকের কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ বাদি হয়ে প্রধান ঘাতক রাজমিস্ত্রি জাকির হোসেনকে সুনির্দিষ্ট ও দুই-তিনজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে বানারীপাড়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এদিকে লোমহর্ষক এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ঘাতকদের ফাঁসির দাবিতে সোমবার সকালে বানারীপাড়ার বাসস্ট্যান্ড চত্বরে এলাকাবাসী মানববন্ধন করেছে। অপর দিকে থানা সূত্রে জানা গেছে প্রবাসীর স্ত্রী মিশুর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বানারীপাড়ায় ট্রিপল মার্ডার পরকীয়ার জন্যই হত্যাকাণ্ড : প্রবাসীর স্ত্রী রিমান্ডে
বানারীপাড়ায় আলোচিত ট্রিপল মার্ডারের প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত হয়েছে। পরকীয়া প্রেমের কারণে এ ট্রিপল মার্ডার বলে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা কুয়েত প্রবাসীর স্ত্রী মিশরাত...



