শ্যামনগরে খুন, জখম, চুরি-ডাকাতি বেড়েই চলেছে। পুলিশের ঊধ্বতন কর্মকর্তারা ডাকাতি হওয়া ঘরবাড়ি ও পুলিশি তদন্তে তদারকি বাড়িয়েছেন। এর পরও ডাকাতি কমছে না। গত শনিবার দুপুরে শ্যামনগরের গোপালপুরস্থ প্রধান শিক্ষক কাজল কান্তি গাইনের বাড়িতে ডাকাতি হওয়া ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সাতক্ষীরা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: জামিরুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ আলহাজ নাজমুল হুদা প্রমুখ। তিনি ঘটনাস্থল দীর্ঘ সময় ধরে পর্যবেক্ষণ করেন এবং এলাকাবাসীর সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: জামিরুল ইসলাম এ সময় উপস্থিত এলাকাবাসীকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা তদন্ত করছি, দ্রুত চোর সিন্ডিকেটকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।
গত ৬ ডিসেম্বর গভীর রাত ১টার সময় প্রধান শিক্ষক কাজল কান্তি গাইন ও তার স্ত্রীকে চেতনাশক ওষুধ দিয়ে গ্রিল কেটে টাকাসহ স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায় সঙ্ঘবদ্ধ চোরের দল। শ্যামনগরে অজ্ঞান পার্টি কর্তৃক দুর্ধর্ষ চুরি সংঘটিত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শ্যামনগর সদর ইউনিয়নের গোপালপুর রাধাকৃষ্ণ গোবিন্দ মন্দিরসংলগ্ন স্কুলশিক্ষক কাজল কান্তি গাইনের বাড়িতে। চেতনানাশক ওষুধ স্প্রের মাধ্যমে পরিবারের সবাইকে অজ্ঞান করে দুই লক্ষাধিক টাকার মালামাল চুরি হয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগী পরিবার।
এর আগে উপজেলার উপজেলা সদর বাদঘাটা গ্রামে বসবাসরত জাতিসঙ্ঘ শান্তি মিশনে কর্মরত সেনা সদস্য মো: জালাল উদ্দিনের বাড়িতে স্বর্ণালঙ্কার ও অর্থ চুরি হয়েছে।
গোপালপুর মুকুলের বাড়িতে বাইসাইকেল ও মোবাইল, প্রফেসর পর্থিক মণ্ডলের অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার; সদর ইউপি সদস্যা দেলোয়ারা বেগমের মেয়ে মোছা: মনজুআরা খাতুন মিতার অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার, কোওছার গাজী ও সুকুমারের মোটর ভ্যান, আলমগীরের তিন ইঞ্চি পাম্প মেশিন ও বাইসাইকেল, রেজাউল ও জয়ন্ত ঠাকুরের তিন ইঞ্চি পাম্প মেশিন এবং অর্থ চুরি হয়েছে। ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু সাঈদ মাহমুদের বাড়িতে অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার, নকিপুর সরকারি গার্লস স্কুলের শিক্ষিকা শিরিন আক্তারের বাড়িতে অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার, চয়ন মণ্ডলের মোটর ভ্যান, ব্যবসায়ী মো: আদম আলীর অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার, প্রভাষক প্রদীপ কুমার রপ্তানের বাড়িতে দু’বার অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার, মোছা: বন্যা খাতুনদের বাড়িসহ সম্প্রতি কাতখালীতে ঘরের গ্রিল ও তালা ভেঙে মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা উল্লেখযোগ্য। ৭ ডিসেম্বর জেলেখালী পল্লীতে স্ত্রী সোনা খাতুনকে হত্যা করে স্বামী মান্নান গাজী আত্মহত্যা হলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করেছে।
শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ আলহাজ নাজমুল হুদার সাথে কথা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, চুরি-ডাকাতির ঘটনায় মামলা নিয়েছি, আসামি ধরেছি এবং চালানও করেছি, সঙ্ঘবদ্ধ চক্রটি ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।