টেকনাফে র্যাবের হাতে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও অস্ত্রসহ আটক নূর হাফেজ ও সোহেল পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে। গতকাল শনিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গিখালী গাজী পাড়ার পশ্চিমে পাহাড়ে এ ‘বন্দুকযুদ্ধে’র ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৯৫ হাজার ইয়াবা, দেশীয় ছয়টি বন্দুক, ১৮ রাউন্ড গুলি ও ১৩ রাউন্ড খালি গুলির খোসা উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় পুলিশের পাঁচজন সদস্য আহত হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।
নিহতরা হলো, টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের নয়াবাজার এলাকার দিল মোহাম্মদের ছেলে শীর্ষ ইয়াবা কারবারি মো: আমিন ওরফে নূর হাফেজ (৩২) ও হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গিখালী এলাকার সাব্বির আহমদের ছেলে মোহাম্মদ সোহেল (২৭)।
টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ জানিয়েছেন, গত ১৩ ডিসেম্বর রাতে র্যাব-৭ এর একটি দল ৮ লাখ ইয়াবা, ছয়টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ ইয়াবা কারবারি মো: আমিন ওরফে নূর হাফেজ (৩২), হ্নীলার রঙ্গিখালী এলাকার মোহাম্মদ সোহেল (২৭), সৈয়দ নূর (২৭) ও সৈয়দ আলম কালুকে (৪৫) আটক করে। আটকের পর র্যাব সদস্যরা একই দিন বিকেলে টেকনাফ থানার পুলিশের কাছে সোপর্দ করে এবং সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা রুজু করে। পরে আটক ইয়াবা কারবারিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা পাহাড়ে আরো ইয়াবা মজুদের কথা স্বীকার করে। রাতে টেকনাফ থানার পুলিশ ইয়াবা উদ্ধারের জন্য অভিযানে নামে। পুলিশ রঙ্গিখালী গাজী পাড়ার পশ্চিমে পাহাড়ে পৌঁছার সাথে সাথে ওঁৎ পেতে থাকা অন্য ইয়াবাকারবারিরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি করে। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়।
এ সময় ইয়াবাকারবারিদের গুলিতে পুলিশের এসআই কামরুজ্জামান, এএসআই মিশকাত, সনজীব দত্ত, কনস্টেবল মহিউদ্দিন ও সেকান্দর গুলিবিদ্ধ হয়। একপর্যায়ে হামলাকারিরা পালিয়ে গেলে ঘটনাস্থলে তল্লাশি করে দেশীয় ছয়টি এলজি, ১৮ রাউন্ড কার্তুজ, ১৩টি কার্তুজের খোসা, ৯৫ হাজার ইয়াবাসহ গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নূর হাফেজ ও সোহেলকে উদ্ধার করা হয়। আহতদের প্রথমে টেকনাফ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করে। আহত পুলিশ সদস্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।