শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলা সরকারি খাদ্যগুদামে (এলএসডি) ইতঃপূর্বে নিম্নমানের চাল সরবরাহ করা সেই সিন্ডিকেট সদস্যরা আবারো সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ভারপ্রাপ্ত খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) আয়মান বিনতে ফেরদৌস নূপুরকে নিম্নমানের চাল নেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে ব্যর্থ হয়ে ওই চক্রটি এখন খাদ্যগুদামের কর্মকর্তাকে বদলি করাসহ হুমকি ও সরকারের বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ দেয়া শুরু করেছে।
খাদ্যগুদাম সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৯ সেপ্টেম্বর ঝিনাইগাতী উপজেলা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এলএসডি) হিসেবে আয়মন বিনসে নূপুর যোগদান করেন। যোগদান করে খাদ্যগুদামের তৎকালীন কর্মকর্তা (এলএসডি) বিকাশচন্দ্র দেবনাথের কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নিতে গিয়ে দেখতে পান ওই গুদামের বেশির ভাগ চাল নষ্ট। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানালে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক তাৎক্ষণিক দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন। কমিটি গঠনের পরেই অভিযুক্ত বিকাশচন্দ্র দেবনাথ সরকারিভাবে সংগ্রহ করা ২৯৯ মেট্রিক টন পচা চাল গুদাম থেকে বের করে সমপরিমাণ ভালো চাল কিনে ওই খাদ্যগুদামে সরবরাহ করেন। তদন্তে বিষয়টির সত্যতা পায় কমিটি। ততক্ষণে বিষয়টি খাদ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের নজরে এলে বিকাশ দেবনাথকে গত ৮ সেপ্টেম্বর সাসপেন্ড ও অন্য সবাকেই তাৎক্ষণিক বদলি করা হয়। বিকাশের দেয়া তথ্যানুযায়ী খারাপ চাল সরবরাহের দায়ে ওই উপজেলার ১০টি চাতাল কলকে আমন মৌসুমে চাল সরবরাহ থেকে বিরত রাখতে কালো তালিকাভুক্ত করে খাদ্য বিভাগ।
এরপর থেকেই ওই চক্রটি এই কর্মকর্তার ওপর নাখোশ হয়ে তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে চাতাল কল মালিকদের স্বাক্ষর নিয়ে অনিয়ম দুর্নীতি অভিযোগ এনে বদলি করার চেষ্টা চলাচ্ছে। আর এতে যোগ দিয়েছে ওই সিন্ডিকেট ও কালো তালিকাভুক্ত মিলারদের একাংশ।
এ বিষয়ে জানাতে চাইলে একজন মেসার্স জাকির চালকলের স্বত্বাধিকারী জাকির হোসেন মুঠোফোনে সাংবাদিকদের বলেন, আমরা হাসকি মিলের চাল দিতে গেলে বর্তমান কর্মকর্তা গ্রহণ করেন না, অটো মিলের চাল আনতে বলেন। এতে আমরা লোকসানের মুখে পড়েছি। তিনি আরো বলেন, ভালো চাল দিতে গেলেও ওই কর্মকর্তা ঘুষ দাবি করেন।
এদিকে চাতালকল মালিক বীর মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল হক ও আবুল বাশার জানান, আমরা মিটিংয়ে উপস্থিতির জন্য স্বাক্ষর করেছি, আমরা কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো লিখিত দেইনি।
চাতালকল মালিকদের আরেক অংশ জানিয়েছে, আমাদের ভুল বুঝিয়ে স্বাক্ষর নিয়েছেÑ এই মর্মে আমরা লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।
ঝিনাইগাতীর ওসিএলএসডি আয়মন বিনতে ফেরদৌস নূপুর বলেন, আমি সরকারের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে চক্রের তোপের মুখে পড়েছি। আমাকে বদলির হুমকি দেয়া হচ্ছে, লিখিত অভিযোগ দিচ্ছে। আমি এখানে নতুন অনেককে চিনিই না। ঘুষ নেয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না দাবি করে নূপুর বলেন বিষয়টি নিয়ে একটি তদন্ত হোক। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফরহাদ খন্দকার সাংবাদিকদের জানান, আমরা তো বর্তমান ঝিনাইগাতীর ওসিএলএসডির অনিয়ম দেখছি না। তিনি আরো বলেন, একজন কর্মকর্তা কাজ শুরুই করেননি অথচ তিনি দুর্নীতি করেছেন তাকে বদলি করতে হবে- এটা প্রশ্নই আসে না।
ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা খাদ্য ক্রয় কমিটির সভাপতি রুবেল মাহমুদ বলেন, সরকারিভাবে চাল সংগ্রহে কোনো অনিয়ম মানা হবে না। সরকারি চাকরিতে বদলি আছে তবে বর্তমান ওসিএলএসডি যদি হুমকিতে থাকেন তিনি চাইলে হুমকিদাতাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।