ভোলার অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার রুটে নদীর বুকে অসংখ্য ডুবোচর জেগে উঠেছে। ফলে লঞ্চ ও ফেরিসহ নৌযান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। নাব্যতা সঙ্কটের কারণে ভোলা-ঢাকা, ভোলা-বরিশাল ও ভোলা-লক্ষ্মীপুরসহ অন্তত ২৫ রুটে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে নৌযান। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন ভোলার ২০লাখ মানুষ। অবশ্য কিছু পয়েন্টে ডেজিং করা হলেও সঠিক ভাবে সেই ড্রেজিং না হওয়ায় বেশিরভাগ রুটের বেহাল দশা। ফলে লোকসান গুনতে হচ্ছে লঞ্চ মালিকদের। তবে নাব্যতা রোধে বিআইডব্লিউটিএর পক্ষ থেকে ডেজিং করা হচ্ছে বলে জানায়।
ভোলার সঙ্গে রাজধানী ঢাকার যোগাযোগের একমাত্র সহজ মাধ্যম নৌপথ। এখান থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী লঞ্চে করে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করে থাকে। কিন্তু শীতের শুরুতেই নদীতে অসংখ্য ডুবোচর জেগে ওঠায় নৌযান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে গন্তব্য যেতে পারছে না নৌযানগুলো। লঞ্চ ও ফেরির মাস্টার ও সাধারণ যাত্রীরা জানায়, ডুবোচরের কারণে অনেক ক্ষেত্রেই জোয়ার ভাটার ওপর নির্ভর করে চলতে হচ্ছে নৌযানগুলোকে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে এ অঞ্চলের নৌপথ। এ অবস্থায় নৌপথের রক্ষণাবেক্ষন ও সঠিক জায়গায় ড্রেজিংয়ের দাবি তোলেন ভুক্তভোগীরা।
ভোলার ব্রাদার্স নেভিগেশন কোম্পানীর ম্যানেজার মো: আলাউদ্দিন জানায়,ঢাকা-ভোলা যাতায়তের প্রধান মাধ্যম হচ্ছে নদীপথ। এই রুটে ৮টি লঞ্চ চলাচল করে আসছে। কিন্তু নদী পথে নাব্যতা সঙ্কটের কারণে প্রায় আটকে যাচ্ছে লঞ্চ। নির্ধারিত সময় লঞ্চ ছাড়লেও নাব্যতা সংকটের কারনে ভোলা খাল থেকে বেড় হতে সময় লেগে যাচ্ছে কয়েক ঘন্টা। নদীপথে এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে নাব্যতা সঙ্কট। শুধু ভোলা নয় জেলার ২৫ রুটের একই সমস্যা এখন নাব্যতা সংকট। ফলে লঞ্চ গুলো নিয়মিত চলাচল করতে বিঘ্ন হচ্ছে।ফলে লঞ্চ মালিকরা যেমন আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যাত্রীরাও তেমনি হয়রানি হচ্ছে। অনেক সময় যাত্রীদের সাথে লঞ্চের স্টাফদের মারামারি হচ্ছে। তাই কৃর্তপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করে বলতে চাই ভোলার খেয়াঘাট রুটটি সচল রাখতে হলে সঠিক ভাবে সঠিক জায়গার ড্রেজিং করতে হবে। তাহলেই এই রুটটি সচল থাকবে। তা নাহলে যে কোন সময় এই রুটটি বন্ধ হয়ে যাবে।
একই সঙ্গে বয়া ও মার্কার বাতি না থাকায় ঘন কুয়াশার সময়ে লঞ্চ চালাতে বিপাকে পড়তে হয়। তাই বিভিন্ন পয়েন্টে বয়া বাতি স্থাপনের দাবী লঞ্চের মাষ্টারদের।
লঞ্চের সুপার ভাইজারা জানায়, ভোলা খাল, শ্রীপুর, ভেদুরিয়া, কালিগঞ্জ, দারগার খাল, লালমোহন কালাইয়া ও মনপুরার বেশ কয়েকটি পয়েন্টসহ অভ্যন্তরীণ রুটে নদীতে নাব্যতা সংকটের কারনে বিড়ম্বনা সৃষ্টি হচ্ছে। এসব পয়েন্টে যাতায়াতে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ৩/৪ ঘণ্টা সময় বেশি লাগছে। অভিযোগ রয়েছে সঠিক ভাবে সঠিক জায়গায় ড্রেজিং হচ্ছে না বলেই প্রতিদিন আটকে যাচ্ছে ঢাকাগামী লঞ্চ। ফলে ভোলা-ঢাকা রুটে যাত্রী সংখ্যা দিনে দিকে কমতে শুরু করেছে। এছাড়াও নৌ পথের অনেক পয়েন্টেই নেই বয়া বাতি।
অন্য দিকে নদীতে নাব্যতা সঙ্কটের কারণে ফেরি চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। এ কারণে গন্তব্য যেতে অতিরিক্ত সময় লাগছে। তাই এ নৌপথে ড্রেজিং জরুরি হয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে ভোলা নৌ-বন্দরের (বিআইডব্লিউটিএ) সহকারী পরিচালক মো. কামরুজ্জামান জানায়, ইতিমধ্যে নৌ পথে নাব্যতা রোধে বিআইডব্লিউটিএ ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু করেছে। অচিরেই নদী পথে নাব্যতা রোধ হয়ে নৌ পথ স্বাভাবিক হবে। প্রতিবছর এ শুষ্ক মৌসুমে নদীর তলদেশে পলিজমে ডুবচরের সৃষ্টি হচ্ছে। এর বিপরতী কমবেশি ড্রেজিং করছে বিআইডব্লিউটিএ। তবে হচ্ছেনা এর কোন স্থায়ী সমাধান। নৌপথের দ্রুত ড্রেজিং করে নদীর নাব্য ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন যাত্রীরা।
উল্লেখ্য, ভোলার ২৫ রুটে প্রতিদিন ঢাকা সহ বিভিন্ন রুটে অর্ধশতাধিক লঞ্চ চলাচল করছে।



