নোয়াখালীতে স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুকের জন্যে স্ত্রীর মাথার চুল কেটে গরম খুন্তি দিয়ে সারা শরীর ঝলসে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এরপর চিকিৎসা হাসপাতলে নেয়ার সময় ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে তাকে তুলে নেয়ার চেষ্টা চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। কবিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সোমবার রাতে ওই নারীকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর অবস্থা গুরুতর।

ভুক্তভোগী গৃহবধূ ও তার স্বজনেরা জানান, নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার সোন্দলপুর ইউনিয়নের বড় রামদেবপুর গ্রামের ইউসুফ আলীর মেয়ে নিলুফার ইয়াসমিন কলির (২৭) সাথে ২০০৯ সালের ৮ অক্টোবর বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের খানপুর গ্রামের আবদুল মতিনের ছেলে মোশাররফ হোসেন উজ্জলের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের ৫ বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

বিয়ের পর থেকে যৌতুকের জন্যে স্বামী কলির ওপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছে। চাপে পড়ে বাবার বাড়ি থেকে বিদেশ যাওয়ার জন্য কয়েক বার টাকা এনে দেন কলি। গত দুই মাস আগে সৌদি প্রবাসী উজ্জল দেশে ফেরার পর আবারও যৌতুকের জন্য কলির ওপর নির্যাতন শুরু করে। সর্বশেষ গত বুধবার রাতে জেলা শহরের বসিরার দোকান এলাকায় ভাড়া বাসায় যৌতুকের জন্য কলির মাথার চুল কেটে দিয়ে গরম খুন্তি দিয়ে সারা শরীর ঝলসে দেয় উজ্জল। এ সময় শিশু সন্তাকে বেঁধে রেখে কলি চিৎকার করলে ছেলেকে গলা কেটে হত্যার হুমকি দেয় উজ্জল। এক পর্যায়ে ছেলেকে নিয়ে পালিয়ে বাবার বাড়িতে উঠেন কলি। সেখান থেকে শুক্রবার তাকে চিকিৎসার জন্য কবিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে সন্ত্রাসী নিয়ে হামলা চালায় উজ্জল। সোমবার উন্নত চিকিৎসার জন্য কলিকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন চিকিৎসক। সেখান থেকে বিকেলে কলিকে জেলা সদরে নেওয়ার সময় আবারও ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে উজ্জল। পরে স্থানীয় লোকজনের তাড়া খেয়ে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।

খবর পেয়ে রাতে কলিকে দেখতে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে যান জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) দীপক জ্যোতি খীসা এবং সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী আবদুর রহীম । এ সময় তারা এ ঘটনাকে বর্বরোচিত হামলা উল্লেখ করে ঘটনার সাথে জড়িতদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেন।

হাসপাতালের চিকিৎসক নাসির উদ্দিন জানান, কলির সারা অবস্থা আশংকাজনক। তারা পুরো শরীরে গরম লোহা দিয়ে ঝলসে দেয়ার চিহ্ন পাওয়া গেছে।