বাদাম বিক্রি করে সংসার চলে আংশিক দৃষ্টি ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী গিয়াস মোড়লের (৫০)। মাদারীপুরের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বাদাম বিক্রি করে স্ত্রীকে নিয়ে কোন মতে দিনাতিপাত করছেন তিনি। তবে সরকারি কোন ভাতা সুবিধা পান না বলে জানান শিবচর উপজেলার দ্বিতীয়খন্ড ইউনিয়নের মোড়লকান্দিগ্রামের মৃত হানিফ মোড়লের ছেলে প্রতিবন্ধী গিয়াস মোড়ল।

শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার ‘৭১ চত্বরে’ কথা হয় প্রতিবন্ধী গিয়াস মোড়লের। তিনি বলেন, মায়ের কাছে শুনেছি ছোট বেলা আমার জ্বর হয়েছিল। বাবার আর্থিক অবস্থা ভাল না থাকায় চিকিৎসা করাতে পারে নাই। তার কয়েক মাস পর থেকেই আমার চোখ এ রকম হয়ে গেছে।

তিনি আরো বলেন, অভাব-অনটনের কারণে ২৫ বছর আগে স্ত্রীকে নিয়ে পাকিস্তান চলে যাই। সেখানে দুই মেয়ে আর দুই ছেলের জন্ম হয়। তাদের সকলকে নিয়ে ভালোই ছিলাম। তারপরও দেশের টানে ২০১১ সালে স্ত্রীকে নিয়ে চলে আসি।
কাগজপত্রে ঝামেলা থাকার কারণে নিজের ছেলে-মেয়েকে এখনো দেশে আনতে পারেননি বলেও জানান। তাই স্ত্রীকে নিয়েই চলছে তার সংসার। নিজের ভিটে ছাড়া তার কোনো জমি নাই।

গিয়াস মোড়ল আরো বলেন, শিবচর বাজারের ‘৭১ চত্বর’, উপশহর, হাতিরবাগান মাঠসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বাদাম বিক্রি করেন তিনি। ১০ টাকা মূল্যের প্যকেটে বস্তাভর্তি বাদাম কোলে নিয়ে নিয়মিত জীবন যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন।

লাভলু হাওলাদার নামে গিয়াস মোড়লের এক প্রতিবেশী জানান, গিয়াস মোড়ল শিবচর বাজারের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বাদাম বিক্রি করেন। তিনি অত্যন্ত সহজ-সরল মানুষ। সব সময় হাসতে থাকেন। নিজে আয় করে সংসার চালান। তবে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মেম্বার কাছ থেকে কোন ভাতা পান কিনা আমার জানা নেই।

শিবচর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শাহ আলম জানান, গিয়াস কোনো ভাতা পান কিনা বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে আমার কাছে এলে বিষয়টি জেনে শুনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।