নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের প্রধান ওষুধ গুদামঘরের সামনে পাবলিক টয়লেট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। এতে এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অপরিকল্পিত ও অস্বাস্থ্যকর পাবলিক টয়লেট নির্মাণ হলে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে জনস্বাস্থ্য। পাবলিক টয়লেট অন্যত্র নির্মাণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা সিভিল সার্জন ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে অনুরোধ জানিয়ে সোনারগাঁও উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম চিঠি দিয়েছেন।
জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা সোনারগাঁওয়ের জনগুরুত্বপূর্ণ ৬টি স্থানে পাবলিক টয়লেট নির্মাণের ব্যবস্থা করেন। এর মধ্যে সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অভ্যন্তরে একটি টয়লেট নির্মাণের অনুমতি দেয়া হয়। কিন্তু টয়লেট নির্মাণের স্থান নির্ধারণ করা হয়নি। সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ গোপনে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের ওষুধ গুদামের সামনে পাবলিক টয়লেট নির্মাণের স্থান নির্ধারণ করে কাজ শুরু করে।
সোনারগাঁও উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, ওষুধ তৈরিতে সঠিক নিয়ম অনুসরণ করা হলেও সংরক্ষণ দুর্বলতায় গুণাগুণ ও মান নষ্ট হয়। ওষুধ সংরক্ষণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। নীতিমালায় সংরক্ষণ কক্ষের আর্দ্রতা ৬০ শতাংশের নিচে রাখার কথা বলা হয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে সংরক্ষণ কক্ষে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র থাকার কথাও বলা হয়েছে। তাপমাত্রা সহনীয় পর্যায়ে আছে কি না, সেজন্য কক্ষের একাধিক স্থানে থার্মোমিটার রাখার কথা বলা হয়েছে। শুধু সংরক্ষণের গাফিলতিতে রোগ নিরাময়ের ওষুধ কখনো কখনো বিষাক্ত হয়ে উঠতে পারে। সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: পলাশ কুমার সাহা জানান, আমরা চারটি স্থান নির্ধারণ করেছি। এর মধ্যে এক জায়গায় একটি গাছ কাটতে হয়। অন্য আরেক জায়গায় পানির পাম্প রয়েছে। অন্য আরেক জায়গায় ৫০ শয্যা হাসপাতাল হবে। তাই পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের ওষুধের স্টোরের সামনে করতে হচ্ছে।
সোনারগাঁও উপজেলা জনস্বাস্থ্য ও প্রকৌশল বিভাগের উপপ্রকৌশলী নাজমুল হাসান জানান, ইতোমধ্যে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের ওষুধের গুদামের সামনের পাবলিক টয়লেটের কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। জায়গা নির্ধারণের ক্ষেত্রে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের আরো সতর্ক হওয়া প্রয়োজন ছিল।
সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রকিবুর রহমান খান জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নির্মাণাধীন পাবলিক টয়লেটের স্থান পরিদর্শন করে অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হবে।