সবুজ পাতার ভেতর বেগুনী রং। দূর থেকে দেখলে মনে হবে ফুল ফুটে আছে। তবে এটা ফুল নয়। শীতকালীন সবজি বাঁধাকপির ক্ষেত। মনোরম এই দৃশ্য চোখে পড়বে যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠে।
সবজির চাষের জন্য বিখ্যাত যশোর চুড়ামনকাটি । এ এলাকায় শত শত বিঘা জমিতে সবজি আবদ হলেও প্রথমবারের মতো এবার বেগুনী রঙের বাধাঁকপি চাষ হচ্ছে। এই জাতের বাঁধাকপি চাষ করে সাফল্য পাচ্ছেন চাষীরা।
এবার ১২ বিঘা জমিতে এ জাতে সবজি চাষ হয়েছে। কৃষকরা কেজি প্রতি ২২ টাকা ধরে বিক্রি করছেন এ জাতের বাঁধাকপি। আগামীতে বেগুনী রঙের বাঁধাকপির চাষ বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।
শীতকালীন সবজিগুলোর মধ্যে বাঁধাকপি অন্যতম। এটি গাঢ় সবুজ, হালকা সবুজ, সাদা, লাল ও বেগুনীসহ বিভিন্ন রঙের হয়ে থাকে । বাঁধাকপির ইংরেজি নাম কেবেজ এবং বৈজ্ঞানিক নাম ‘ব্রাসিকা ওলেরেসা’। বাঁধাকপির আদি নিবাস ভূমধ্যসাগরীয় দক্ষিণ ইউরোপে। ষাটের দশকে বাংলাদেশে এর চাষ শুরু হয়।
সেখানকার কৃষক আমিন উদ্দিন জানান, তার দুই বিঘাজমিতে বাঁধাকপি চাষে খরচ হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। ইতিমধ্যে প্রতি কেজি ২২ টাকা দরে হাজার খানেক বাঁধাকপি বিক্রি করে দাম পেয়েছেন ৩০ হাজার টাকা। এখনো তার জমিতে আনুমানিক ৯ হাজারের মতো বাঁধাকপি রয়েছে। ভারতে বেড়াতে গিয়ে তিনি এই বাঁধাকপির বীজ কিনে আনেন। এই জাতের বাঁধাকপির চাষ তিনিই প্রথম করেছেন বলে দাবী করেন।
আরেক সবজি চাষী মনোয়ার হোসেন মিন্টু জানান, প্রথমবারের মতো বাঁধাকপি চাষ করে বেশ সাড়া পেয়েছেন। সাধারণ বাঁধাকপির চেয়ে এই কপিতে বেশি দাম পাচ্ছেন। এ সবজির ওজনেও অনেক বেশি।
চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের জগহাটি ব্লকের উপ-সহকারি কৃষিকর্মকতা জহিরুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে ‘রেড় জুয়েল’ও‘রুবি কিং’ নামে দুই জাতের বেগুনী রঙের বাঁধাকপি উৎপাদিত হচ্ছে। এ ইউনিয়নের পোলতাডাঙ্গা গ্রামের আমিন উদ্দিন গত বছর ভারতে থেকে এ জাতের বীজ আনেন। তবে বাণিজ্যিক ভাবে এ বছর প্রথম চাষ হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, এবার আমিন উদ্দিন ২ বিঘা, বাবু ২ বিঘা, মিন্টু ২ বিঘা, বাগডাঙ্গা মনোয়ার হোসেন ১ বিঘা, শহিদুল ইসলাম ১ বিঘা, আব্দুল মান্নান ১ বিঘাসহ এ লাকায় প্রায় ১২ বিঘা জমিতে বেগুনী রঙের বাঁধাকপির চাষ করেছেন কৃষকরা। সবুজ বাঁধাকপি হেক্টরে ৭০ থেকে ৮০ টন উপাদিত হলেও বেগুনী বাঁধাকপি উৎপাদন হয় ৯০ থেকে ১০০ টন। আগামীতে চাষের পরিমাণ আরো বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।



