নতুন বছরের প্রথম দিনে টেকনাফ-শাহপরীর দ্বীপের ৪০ হাজার মানুষের ভোগান্তি নিরসনে হাত দিয়েছে কক্সবাজার সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগ। ২০১১ সাল হতে বিচ্ছিন্ন থাকা কক্সবাজারের টেকনাফের সাবরাং হারিয়াখালী-শাহপরীর দ্বীপ সড়কের সংস্কারকাজ শুরুর মধ্য দিয়ে এখানে মুজিববর্ষ শুরু করেছে সওজ।
৫৪ কোটি ৮৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে সড়কটি এ বছরই পুনঃনির্মাণ করে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করার প্রত্যয়ে গতকাল কার্যাদেশ হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ উপলক্ষে সওজ কক্সবাজার কার্যালয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমার সভাপতিত্বে এক অনুষ্ঠানে কক্সবাজার প্রেস ক্লাব সভাপতি মাহবুবুর রহমান, কক্সবাজার ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউট সভাপতি ও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) সদস্য প্রকৌশলী বদিউল আলম, কার্যাদেশ প্রাপ্ত আল-আমিন কনস্ট্রাকশন ও এম এ এইচ কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারিরা উপস্থিত ছিলেন।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা জানান, টেকনাফ-শাহপরীর দ্বীপ সড়কের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৪ কিলোমিটার। এর মধ্যে সাবরাং হারিয়াখালী-শাহপরীর দ্বীপ উত্তরপাড়া পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার সড়ক ২০১১ সালের শেষের দিকে জোয়ারের তোড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কার্পেটিং উঠে গিয়ে অস্তিত্বহীন হয়ে যাওয়া সড়কের কারণে সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়ে। ২০১৮ সালে সড়কটি সংস্কারের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি একনেকের সভায় ৬৭ কোটি ৭৮ লাখ টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন হয়। পরে ৫৪ কোটি ৮৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রকল্প ব্যয় ধরে চূড়ান্ত অনুমোদন এসেছে।
পিন্টু চাকমা বলেন, কক্সবাজারের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সড়ক এবং সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের বাড়তি দুর্বলতা রয়েছে। এরই ফল শাহপরীর দ্বীপ সড়ক নির্মাণকাজ। এ প্রকল্পে সড়কে বিদ্যমান পেভমেন্ট প্রশস্থকরণের আওতায় আসবে দুই দশমিক ৮১ কিলোমিটার। আর দুই দশমিক ৩৪ কিলোমিটারে নতুন পেভমেন্ট নির্মাণ করা হবে। পাঁচ দশমিক ১৫ কিলোমিটার সড়কে সার্ফেসিং ডিবিএস ওয়েরিং কোর্সের পাশাপাশি নির্মাণাধীন সড়কে ১২টি আরসিসি বক্স কালভার্ট, একটি পিসি গার্ডার সেতু, দুই হাজার ৪৫০ মিটার ‘ইউ’ ড্রেইন, পাঁচ হাজার ৪০০ মিটার টো-ওয়াল, ২০ হাজার বর্গমিটার আরসিসি ব্লক ও জিওটেক্সটাইল এবং সীমান্তে তিন হাজার বর্গফুটের একটি পরিদর্শন বাংলো করা হবে।



