রাজবাড়ী জেলায় চাষ করা আগাম জাতের মুড়িকাটা পেঁয়াজের এক-তৃতীয়াংশ তোলা হয়েছে। এখন কৃষকেরা ব্যস্ত হালি পদ্ধতিতে চাষ করা পেঁয়াজের পরিচর্যায়। বর্তমানে রাজবাড়ীর পাঁচ উপজেলাতেই চলছে হালি বা মূল পদ্ধতির পেঁয়াজ চাষ। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে এ পেঁয়াজ উঠতে শুরু করবে। তখন দাম আবার কমে আসবে বলে ধারণা করছেন কৃষি কর্মকর্তারা।
তবে কৃষকরা আশংকা প্রকাশ করে জানায়, এ বছর লাগাতার প্রচন্ড শৈত্য প্রবাহে ও শুষ্ক আবহাওয়ায় জমিতে পেয়াজের হালি পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাতে পেয়াজের হালি বাড়তে পারে নাই। এই দূর্বল হালি রোপন করায় এবার পেয়াজ তেমন পুষ্ট হবে না। উৎপাদন ব্যাহত হবে। গত বছর বিঘায় ৫০/৭০মন করে পেয়াজ হলেও দূর্বল হালির কারনে ফলন কমে এ বছর ৪০/৪৫মন করে পেয়াজ উৎপন্ন হবে।
প্রচন্ড শীতে শ্রমিকদের সাথে কাজ করছে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ছাত্ররাও। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রাজবাড়ী সদর উপজেলার বসন্তপুরে পেঁয়াজের চারা রোপণ করতে দিনমজুর হিসেবে কাজ করছে বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের ছাত্ররা। পদ্মার তীরবর্তী রাজবাড়ী জেলায় সাড়া দেশের মধ্যে পিয়াজ উৎপাদনে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। মাটির গুনাগুন ও আবহাওয়ার কারণে রাজবাড়ী জেলার পিয়াজ গুনে ও মানে দেশ সেরা। রাজবাড়ী জেলার উচু জমিতে চাষ করা আগাম জাতের মুড়িকাটা পেঁয়াজ ঘরে উঠেছে। কিন্তু তাতেও পেঁয়াজের দাম কমেনি, বরং দু’তিন দিন ধরে দাম আবার বেড়ে চলেছে। আমদানি কমে যাওয়ায় এমন অবস্থা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাই এখন ভরসা করতে হচ্ছে হালি বা মূল পদ্ধতিতে চাষ হওয়া পেঁয়াজের ওপর।
রাজবাড়ী জেলায় কৃষকেরা ব্যস্ত সময় পার করছেন হালি পেঁয়াজের চারা ক্ষেত থেকে তোলা ও রোপণে। এই রোপণ চলবে পুরো জানুয়ারি মাস রাজবাড়ী জেলার এই বিস্তৃর্ণ মাঠজুড়ে চাষীদের এমন ব্যাস্ততার চিত্রই বলে দেয় দম ফেলার সময়টুকু নেই তাদের। আগাম মুড়িকাটা পেয়াজ চাষে সফলতা মেলায় বর্তমানে হালি পেয়াজের আবাদ করছেন চাষীরা। বিগত বছরের তুলনায় এবছর রাজবাড়ীর চাষীরা বেশী আগ্রহী পেয়াজের চাষাবাদে। কৃষকেরা জানান গত বছর পেঁয়াজ চাষে লোকসানের মুখে পরেছিলেন তারা। তবে এবার বাজারে পেঁয়াজের দাম বেশি হওয়ায় লাভের আশা তাদের। তাই মুড়িকাটা পেঁয়াজ এর পরেই হালি পেয়াজ চাষে আগ্রহ বেশী।জেলার ৫উপজেলাতেই এখন চলছে হালি বা মূল পদ্ধতির পেঁয়াজ চাষ। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে এ পেঁয়াজ উঠতে শুরু করবে। তখন দাম আবার কমে আসবে বলে ধারণা করছেন কৃষি কর্মকর্তারা।
এ জেলার ৫ উপজেলায় প্রচুর পেঁয়াজের আবাদ হয়ে থাকে। এর মধ্যে বালিয়াকান্দি উপজেলা পেঁয়াজের ভান্ডার নামে পরিচিত। এ উপজেলাসহ এবার জেলায় ২৫হাজার ৫শ হেক্টর হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ উপজেলার এক-তৃতীয়াংশ জমি থেকে কৃষকেরা আগাম জাতের পেঁয়াজ ঘরে তুলেছেন।
কৃষক ও পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা জানায়, গত পাঁচ থেকে ছয় বছরে পেঁয়াজ চাষিরা আগাম মুড়কাটা ও হালি দুই ধরনের পেঁয়াজেই টানা লোকসান দিয়েছেন। তাই তারা বিদেশ থেকে পিয়াজ আমদানি না করে দেশের পিয়াজচাষীই যাতে উপযুক্ত দাম পায়, এ দাবি কৃষকদের।
পেঁয়াজের দাম ভালো দেখে রাজবাড়ী জেলার কৃষকেরা এবার পেঁয়াজ চাষে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বাকি জমির পেঁয়াজের আবাদ শেষ হবে বলে জানা গেছে। ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে হালি পদ্ধতির পেঁয়াজ কৃষকের ঘরে উঠতে শুরু করবে। রাজবাড়ীতে এ বছর পেয়াজের লক্ষ্যমাত্র ধরা হয়েছে ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে। আগাম মুড়িকাটা পেয়াজ চাষে কৃষকেরা ভালো লাভবান হওয়ায় বর্তমানে হালি পেয়াজ চাষে কৃষকের আগ্রহ বেশী। তাই আগামীতে জেলায় পেয়াজ চাষ আরও বাড়বে বলে জানালেন জেলা কৃষি কর্মকর্তা। রাজবাড়ীর বাজারে দু–তিন দিন ধরে পেঁয়াজের দাম আবার বাড়তে শুরু করেছে।
শনিবার গোয়ালন্দ ও রাজবাড়ীর বড় বাজার হাটে প্রতি কেজি আগাম জাতের পেঁয়াজ ১৫০ থেকে ১৭৫ টাকায় (পাইকারি) বিক্রি হতে দেখা গেছে। হাট ঘুরে দেখা গেছে, পেঁয়াজের আমদানি হয়েছে বেশ কম। ‘আগাম জাতের পেঁয়াজ এ সপ্তাহের মধ্যেই হয়তো শেষ হয়ে যাবে। ব্যাবসায়ী ও ভোক্তারা ভেবেছিল, আগাম জাতের পেঁয়াজ উঠলেই দাম কমে যাবে। কিন্তু তা আর হলো না। তাই এখন ভরসা হালি পেঁয়াজে। মাস দেড়েকের মধ্যে এই পেঁয়াজ বাজারে উঠলে দাম কমবে বলে আশা।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা গোপাল কৃষ্ণ দাস বলেন, ‘হালি বা মূল পদ্ধতির পেঁয়াজের ফলন ভালো হবে বলে আশা করছি। ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে হালি পদ্ধতির পেঁয়াজ কৃষকের ঘরে উঠতে শুরু করবে।’
তিনি আরো জানান, গত বছর রাজবাড়ী জেলায় প্রায় ২৯ হাজার হেক্টর জমিতে আগাম মুড়িকাটা ও হালি পেঁয়াজের চাষ হয়। এ বছরও তার বেশি জমিতে পেয়াজ চাষ হবে।



