কুড়িগ্রামের বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মো: তারিক হোসেন কর্তৃক সিভিল মোকদ্দমায় দুইজন নিরপরাধ ব্যক্তিকে বেআইনিভাবে জেলহাজতে প্রেরণ, বিচারপ্রার্থী সাধারণ জনগণসহ বিজ্ঞ আইনজীবীদের সাথে অসৌজন্য ব্যবহার, অ-বিচারক সুলভ আচরণ, অনৈতিক ও বেআইনি কার্যকলাপের প্রতিবাদে কুড়িগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি রোববার সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেছে। সংবাদ সম্মেলন ওই বিচারকের প্রত্যাহারের দাবিতে সাত দিনের আলটিমেটাম দেয় আইনজীবী সমিতি। আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অভিযুক্ত বিচারকের আদালত বর্জন কর্মসূচি চলবে। এরপরও পরিস্থিতির উন্নতি না হলে কঠোর কর্মসূচি দেয়ার হুমকি দেয়া হয়।
গতকাল রোববার দুপুরে বারের অ্যাডভোকেট এনামুল হক চৌধুরী চাঁদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য উপস্থাপন করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফখরুল ইসলাম। এ সময় তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীববী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট ইয়াছিন আলী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমজাদ হোসেন, অ্যাডভোকেট এরশাদুল হক চৌধুরী, শ্রী সুজিৎ চক্রবর্তী, অ্যাডভোকেট আলতাফ হোসেন, প্রমুখ। এর আগে সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সর্বসম্মতিক্রমে এ আন্দোলন কর্মসূচি নেয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে যেসব আইনগত দিক লঙ্ঘিত হয়েছে তা ব্যাখ্যা করেন সাবেক বিচারক ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু। তিনি বলেন, তিনটি কারণে এ মামলা অবৈধ, প্রথমত: ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৫ ধারা পেনাল কোডের ৪২০ ও ১২০ ধারা উল্লেখ না থাকায় কোনো সিভিল আদালতের বিচারক ওই ধারাগুলোর অধীনে কোনো মামলা করতে পারেন না। দ্বিতীয়ত: অধস্তন আদালতের কোনো সিভিল আদালতের বিচারক ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৭৬ ধারা অনুয়ায়ী তার পেশকার বা সেরেস্তাদার দ্বারা কোনো মামলার এজাহার দায়ের করতে পারেন না। তৃতীয়ত: সিভিল মামলার চূড়ান্ত রায় ছাড়া বিচার চলাকালে এমন কোনো মামলা দায়ের করা যাবে না।
কুড়িগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট ইয়াসিন আলী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত একটি সিভিল মামলায় বাদি ও বিবাদি আদালতের বাইরে সমঝোতা করার পর বাদি নার্গিস হক মামলা প্রতাহারের আবেদন করেন। কিন্তু বিচারক বাদির আবেদন আমলে না নিয়ে বেআইনিভাবে বিবাদি আসাদুর জামান সবুজ ও তার মা আসমা বেগমকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন, যা সিভিল মামলায় ওই বিচারকের সম্পূর্ণ এখতিয়ারবহির্ভূত।
ওই বিচারক তার কোর্টের বেঞ্চ সহকারীকে বাদি করে ওই দুই বিবাদির বিরুদ্ধে কুড়িগ্রাম সদর থানায় একটি এজাহার দাখিল করেন যা আইনসম্মত নয়। এমতাবস্থায় জেলা ও যুগ্ম দায়রা জজ মো: তারিক হোসেন বিচারিক কাজ পরিচালনার নৈতিক যোগ্যতা হারিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, বেআইনিভাবে ওই দুই বিবাদিকে জেলহাজতে প্রেরণের সিদ্ধান্ত দেয়ার পর জেলা আইনজীবী সমিতির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো: ফখরুল ইসলাম এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো: আমজাদ হোসেন ওই বিচারকের চেম্বারে দেখা করতে গেলে তিনি তাদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।
কুড়িগ্রামে যুগ্ম জেলা জজের প্রত্যাহার চেয়ে আইনজীবীদের আদালত বর্জন
কুড়িগ্রামের বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মো: তারিক হোসেন কর্তৃক সিভিল মোকদ্দমায় দুইজন নিরপরাধ ব্যক্তিকে বেআইনিভাবে জেলহাজতে প্রেরণ, বিচারপ্রার্থী সাধারণ জনগণসহ বিজ্ঞ আইনজীবীদের সাথে...



