কুড়িগ্রামে স্ত্রী হত্যার দায়ে বাবলু মিয়া (৪৫) নামে একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার কুড়িগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুন্সী রাফিউল আলম এ রায় দেন। এ সময় বাবলু মিয়া আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের কাচ্চির গ্রামের ছমির জালালের ছেলে বাবলু মিয়ার সাথে একই গ্রামের মৃত খেজমত উল্লাহর মেয়ে আনোয়ারা বেগমের বিয়ে হয় ১৯৯৫ সালে। বিয়ের পর তাদের সংসারে দুই মেয়ের জন্ম হয়। বাবলু মিয়া ছেলে সন্তানের জন্য দ্বিতীয় বিয়ে করার অনুমতি দিতে স্ত্রী আনোয়ারা বেগমকে সাদা স্টামে স্বাক্ষর দিতে চাপ প্রয়োগ করে।
এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। অন্য দিকে বাবলুর পরিবারের লোকজন কারণে-অকারণে আনোয়ারার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতে থাকে। একপর্যায়ে ২০০৮ সালের ১৭ এপ্রিল আনোয়ারাকে শ^াস রোধ করে হত্যা করে বাবলু ও তার পরিবারের স্বজনরা। পরে তার লাশ ওড়না দিয়ে পেঁচিয়ে ঘরের ধর্নার সাথে ঝুলিয়ে পরিবারকে খবর দেয়া হয়।
এ ঘটনায় আনোয়ারা বেগমের বড় ভাই ইউনুছ আলী ২০০৮ সালের ১৯ এপ্রিল বাদি হয়ে বাবলু মিয়া, তার বাবা ছমির জালাল, মা বাছিরন বেগমসহ পাঁচজনের নামে মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ শুনানির পর গত মঙ্গলবার জেলা দায়রা ও জজ আদালত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আসামি বাবলু মিয়াকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরো ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।