কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় ডাকাত সন্দেহে গণপিটুনিতে দুইজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বসতবাড়িতে ডাকাতি ও নুরুন্নবী নামে এক প্রবাসীকে খুনের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জনতা তাদের গণপিটুনি দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বুধবার সকালে শিলখালীর পাহাড়ি অঞ্চল সাপের ঘারা ও উত্তরের ঝুম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হচ্ছে, পেকুয়া উপজেলার উত্তরের ঝুম এলাকার নাগু মিয়ার ছেলে জামাল হোসেন (৩৫) ও নেজাম উদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ কাইছার (২৮)। আহত হয়েছে একই এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন (২৬)। পেকুয়া থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল আজম জানান, মঙ্গলবার রাতে পেকুয়া উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের সাপের ঘারা এলাকায় মালয়েশিয়া প্রবাসী নুরুন্নবীর বাড়িতে হানা দেয় একদল সশস্ত্র লোক। তাদের ছোড়া গুলিতে প্রাণ হারান নুরুন্নবী। ধারালো অস্ত্রের কোপে গুরুতর আহত হন তার ভাই মোজাম্মেল ও মা হাজেরা বেগম। আহতরা বেশ কয়েকজন হামলাকারীকে চিনে ফেলেন। তাদের দেয়া তথ্য মতে বুধবার সকালে বিুব্ধ এলাকাবাসী সাপের ঘারা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার পাঁচটি ঘর ঘেরাও করে। সেখান থেকে ডাকাতি ও খুনের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জামাল উদ্দিন, মোহাম্মদ কাইছার ও নাসির হোসেনকে ধরে নিয়ে গণপিটুনি দেয় তারা। এতে ঘটনাস্থলে মারা যায় জামাল উদ্দিন ও মোহাম্মদ কাইছার। অপর একজনকে আহতাবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। আহত ব্যক্তিকে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পুলিশের হেফাজতে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। নিহতদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় একাধিক সূত্র মতে, মালয়েশিয়া প্রবাসী ও সদ্যবিবাহিত নুরুন্নবীর বাড়িতে ডাকাতি ও তাকে মর্মান্তিকভাবে খুন করার বিষয়টি এলাকাবাসী মেনে নিতে পারেনি। বুধবার সকালে সংুব্ধ এলাকাবাসী পাহাড়ি এলাকায় ডাকাতদলের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান চালায়। তিন ডাকাতকে স্থানীয়রা পাকড়াও করার চেষ্টা করলে স্থানীয়দের ওপর তারা হামলার চেষ্টা করে। ওই সময় স্থানীয়দের গণপিটুনি শুরু হয়। এ ঘটনায় ঘটনাস্থলে দুইজন নিহত হয় এবং আহত হয় একজন। পুলিশ বেলা ১১টার সময় নিহতের লাশ উদ্ধার করে।



