ছোট একটি টিনের জীর্ণ ঘরে জন্মান্ধ জাহাঙ্গীর আলম ও সেলিনা বেগমের সুখের সংসার। তাদের পরিবারে দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। বড় ছেলের বয়স ১৬ বছর। গান গেয়ে ও মানুষের সহযোগিতায় সুন্দরভাবে পরিবারের ভরণ-পোষণ করছেন জন্মান্ধ জাহাঙ্গীর আলম। তারা সুখে-শান্তিতে ভালোবাসায় অতিক্রম করেছেন বিয়ের ১৭ বছর। জন্মান্ধ হলেও জাহাঙ্গীরের প্রতি ভালোবাসার কমতি নেই স্ত্রী সেলিনা বেগমের।
জাহাঙ্গীর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ফুলমড়ি গ্রামের অহিদুল ইসলামের বড় ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৭-৯৮ সালে উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের যাত্রাপুরে একটি এনজিও সংস্থার অধীনে সচেতনতামূলক বিভিন্ন গান গেয়ে জীবিকা নির্বাহ শুরু করেন জন্মান্ধ জাহাঙ্গীর। তার কাছে মালেকা আক্তার নামে এক যুবতী গান শিখত। কিন্তু জন্মান্ধ জাহাঙ্গীরের গানে মুগ্ধ হন মালেকা আক্তারের বোন সেলিনা আক্তার। এক পর্যায়ে তিনি পারিবারিকভাবে সেলিনা আক্তারকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। ২০০৪ সালে জন্মান্ধ জাহাঙ্গীর ও সেলিনার যৌতুকবিহীন বিয়ে সম্পন্ন হয়।
সেলিনা জানান, এই বিয়েতে তিনি সমালোচনার শিকার হলেও তার উদ্দেশ্য ছিল জন্মান্ধ জাহাঙ্গীর আলমের সেবা করা।
সেলিনা বেগমের ভাষায়, ‘আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি, আল্লাহ আমাকে অনেক সুখে রেখেছেন। বিয়ের পর থেকে কখনো স্বামীর সাথে ঝগড়া হয়নি। যেভাবেই হোক স্বামী আমার ভরণ-পোষণ চালিয়ে যাচ্ছেন। নিজের চিকিৎসা না করেও আমার চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকতে দেখেছি স্বামীকে। তাছাড়া স্বামী পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়সহ ইসলামী বিধি-বিধান মেনে চলায় আমি ভীষণ খুশি।’
জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আল্লাহর অশেষ রহমতে ও বিভিন্ন মানুষের সহযোগিতায় আমি পারিবারিক জীবনে ১৭ বছর সুন্দরভাবে অতিবাহিত করেছি। আমি জন্মান্ধ হলেও স্ত্রী হিসেবে সেলিনাকে সব সময় খুশি রাখতে চেষ্টা করেছি। থাকার জায়গার সংকট হওয়ায় বড় ছেলেকে বাবার ঘরে, ছোট ছেলেকে এতিমখানায় ও মেয়েকে পাশের এক ঘরে থাকতে হয়।’ একটি নতুন ঘর তৈরিতে সহযোগিতার জন্য তিনি সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের কাছে আকুতি জানিয়েছেন। বিকাশ নম্বর-০১৬১৭৪২৪৩৪২ (পারসোনাল)।
এলাকাবাসী জানায়, তাদের মতো পরিবার এলাকায় খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।
স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে জাহাঙ্গীর-সেলিনার মতো ভালোবাসা সকলের থাকা প্রয়োজন বলে মত প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।





