চাহিদার বাইরে শিল্পলবণ আমদানি বন্ধ করে কক্সবাজারের লবণশিল্প রক্ষার দাবি জানিয়েছে কক্সবাজার জেলা বিএনপি। দেশের লবণশিল্পকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে তারা। গতকাল রোববার দুপুরে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, শিল্পলবণের আড়ালে অবাধে খাদ্যলবণ আমদানির সুযোগ দেয়ায় কক্সবাজারে লবণশিল্প বিপর্যয়ের মুখোমুখি। এই শিল্প নিয়ে প্রতিনিয়ত ষড়যন্ত্র চলছে। ষড়যন্ত্র থেকে উত্তরণ ও ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে।
বক্তব্যে তিনি লবণশিল্প বাঁচাতে তিনটি করণীয়ের কথা জানান। এগুলো হলোÑ চাহিদা মোতাবেক শিল্পলবণ আমদানি হোক। কিন্তু চাহিদার চেয়ে অতিরিক্ত শিল্পলবণ আমদানি অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। যে সব কোম্পানি শিল্পলবণ আমদানি করে, তারা যেন প্রক্রিয়াজাত করে খাদ্যলবণ বাজারজাত করতে না পারে, সে ব্যাপারে সরকারকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। সরকারি উদ্যোগে মাঠ পর্যায়ে উৎপাদিত লবণের ন্যায্যমূল্য প্রতি কেজি ১৫ টাকা নির্ধারণ করতে হবে, নয়তো চাষিদের কাছ থেকে প্রতি কেজি ১৫ টাকা দামে সরাসরি লবণ কিনতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতারা আপে করে বলেন, এক দিকে মাঠে পড়ে আছে লাখ লাখ মেট্রিক টন লবণ, অন্য দিকে শিল্পলবণের নামে বিদেশ থেকে লবণ আমদানি করে সেই লবণকে খাদ্যলবণে প্রক্রিয়াজাত করছে আমদানিকারক নামধারী কিছু ব্যক্তি। আর মাথার ঘাম পায়ে যেসব চাষি মাঠে লবণ উৎপাদন করছেন, সেই চাষিরা উৎপাদিত লবণের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে মাঠ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হচ্ছেন। যেহেতু তারা ঋণ কিংবা দাদন নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন, সেহেতু সেই ঋণ শোধ করতে না পেরে তারা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যারাও মাঠে আছেন তারাও যেকোনো সময় মাঠ ছেড়ে পালানোর চেষ্টায় আছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ও কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এ টি এম নুরুল বশর চৌধুরী, সহসভাপতি মিজানুর রহমান চৌধুরী খোকন মিয়া। উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জামিল ইব্রাহিম চৌধুরী, দফতর সম্পাদক ইউসুফ বদরী, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি অধ্যাপক আজিজুর রহমান, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মাবুদ, মহেশখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক প্রমুখ।