ভোলাহাট উপজেলার মূল সড়কে প্রতিদিন যাতায়াত করে উপজেলার ১ লাখ ২০ হাজার মানুষ। সড়ক ও জনপথ বিভাগের এ সড়কের ওপর দিয়ে যেতে হয় দেশের বিভিন্ন স্থানে। কিন্তু যাতায়াতের জন্য নেই কোনো গণপরিবহন। প্রায় ১০ বছর আগে থেকে বন্ধ রয়েছে যাত্রীবাহী বাস। নির্ভর করতে হয় অটোর ওপর। তা-ও আবার গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুরের সরকার দলের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা রহনপুরের অটো নিজ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ভোলাহাট অটোচালকদের সাথে দুর্ব্যবহার করেন হরহামেশায়। তারা শুধু অটোচালকদের সাথে দুর্ব্যবহার করে ক্ষ্যান্ত হন না, যাত্রীদের মারধর করার অভিযোগ পাওয়া যায়। কোনো ব্যবসায়ী, অসুস্থ বা মৃত ব্যক্তিকে দেখতে অটো রিজার্ভ করে আসতে চাইলে সেখানেও চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি করেন।
গত ২ ফেব্রুয়ারি সোমবার সকালে রহনপুর থেকে রিজার্ভ করে ভোলাহাট একতা মার্কেটের এক ব্যবসায়ী আসার সময় তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে রহনপুরের অটোচালকরা। অপর দিকে তারা ভোলাহাটের একটি অটো আটক করেন এবং একজন চালককে মারধর করেন। আহত অটোচালক ভোলাহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। এতে ক্ষীপ্ত হয়ে ভোলাহাট অটোমালিক ও চালক সমিতি রহনপুরের বেশ ক’টি অটো আটক করে ফেলেন। রহনপুরের অটোচালকদের অস্বাভাবিক আচরণে দফায় দফায় সাবেক এমপি, বর্তমান এমপি, রহনপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র, বর্তমান মেয়র, ভোলাহাট উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও সাবেক চেয়ারম্যানের সভার মাধ্যমেও সমস্যার সমাধান হয়নি।
এ উপজেলার একমাত্র গণপরিবহন অটো। সেটাও চলাচল বন্ধ হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে যাত্রীরা। যে যার মতো করে গন্তব্যে যাচ্ছে। এক নারীযাত্রী রহনপুর যাওয়ার জন্য ভোলাহাট মেডিক্যাল মোড়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পর একটি অটোভ্যানে উঠার চেষ্টা করলে ৩৫টাকা অটো ভাড়ার স্থানে দিতে হচ্ছে ১০০ টাকা। এমন অনেক অসহায় যাত্রীকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।
ভোলাহাট অটোচালক ও মালিক সমিতির সভাপতি মিলন আলী বলেন, বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের আশ্রয় নিয়েও কোনো সুষ্ঠু সমাধান পাচ্ছি না। ফলে তাদের নির্যাতনের সুষ্ঠু সমাধানসহ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে সঠিক অধিকার দাবি করেন। দাবি আদায়ের লক্ষ্যে অটো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি বলেন, অটো বন্ধ থাকলে সুষ্ঠু সমাধান সম্ভব।