সারা দেশের ন্যায় পর্যটন নগরী কক্সবাজারেও করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। আতংকিত না হয়ে সচেতন থাকার প্রচারণায় গঠন করা হয়েছে জেলা কমিটি। জরুরি মুহূর্তে চিকিৎসা ও আইসোলেশনের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে রামু ও চকরিয়া উপজেলায় ৫০ করে ১০০ শয্যার পৃথক ইউনিট। জোরদার রয়েছে কক্সবাজার বিমানবন্দর ও টেকনাফ স্থলবন্দরে করোনাভাইরাস পরীক্ষা। এছাড়া কক্সবাজারে আশ্রিত সাড়ে ১১ লাখ রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি ক্যাম্পে কর্মরত দেশী-বিদেশী লোকদের জন্যও রয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি।
সীমান্তের পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র মিয়ানমারের সাথে টেকনাফ স্থলবন্দর ও করিডোরে আগত ট্রলারের মাঝি-মাল্লাদের চলাচল নিয়ন্ত্রণসহ স্কেনিংয়ের মাধ্যমে তাদের পরীক্ষা করা হচ্ছে নিয়মিত।
টেকনাফ স্থলবন্দরে একটি মেডিকেল টিম মিয়ানমার থেকে আসা প্রতিটি ট্রলারে থাকা মাঝি-মাল্লাদের করোনাভাইরাস শনাক্তকরণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এই মেডিকেল টিমের টিম লিডার হচ্ছেন ডা: শুভ্র দেব।
জানতে চাইলে টিম লিডার ডা: শুভ্র দেব বলেন, ‘ঢাকায় তিন বাংলাদেশি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পরপরই টেকনাফ স্থলবন্দরে প্রতিদিন মিয়ানমার থেকে ট্রলারে করে আসা মাঝিমাল্লাদের শনাক্তকরণের কাজ গুরুত্বসহকারে পালন করা হচ্ছে। তবে সরাসরি এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে কিনা জানতে তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার যথেষ্ট ব্যবস্থা নেই। তবে যে ব্যবস্থায় আমরা করোনাভাইরাস শনাক্তকরণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। এতে নিজেরাই বেশি ঝুকিতে রয়েছি বলে মন্তব্য করেন এই চিকিৎসক।
স্থানীয়দের মতে, তবে বন্দর ও করিডোর এলাকায় সার্বক্ষণিক তদারকির ব্যবস্থা আরো জোরদার করা হোক। কারণ পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র মিয়ানমারের সাথে টেকনাফ স্থলবন্দর ও করিডোরে সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। তবে চীনের সাথে সেদেশের রয়েছে সীমান্ত। ওই সীমান্ত দিয়ে চীনের পণ্য সরাসরি মিয়ানমার আসে, পরে বাণিজ্যিকভাবে বাংলাদেশে ডুকছে। এসব পণ্যের ট্রলারে করে আসছে মিয়ানমারের মাঝিমাল্লা ও নাগরিকরা। এর সুবাধে টেকনাফ স্থলবন্দর ও করিডোরে মিয়ানমার নাগরিকদের আসা-যাওয়া রয়েছে। তাছাড়া চীনসহ বিভিন্ন দেশে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে। যার ফলে বাড়ছে আতঙ্ক। তবে সরকারের পক্ষ থেকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকতা ডা: টিটু চন্দ্র শীল বলেন, করোনা ভাইরাস নিয়ে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে জরুরি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। ভাইরাস শনাক্তে প্রতিদিন বন্দরে আগত জাহাজ ও ট্রলারের ক্রু ও মাঝিমাল্লাদের পারমাল স্কেনিং করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, যেহেতু টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারের সাথে যাত্রী পারাপারের কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে এই এলাকা খুব বেশি সমস্যা সৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। তবে যদি কারো শ্বাসকষ্ট, জ্বর, সর্দি ও কাশির মতো সন্দেহজনক লক্ষণ দেখা দেয় সাথে সাথে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অবগত করতে বলা হয়েছে। এই ভাইরাস সম্পর্কে জনসচেতনতার লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
টেকনাফ স্থলবন্দর ইউনাইটেড ল্যান্ডপোর্ট ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দীন চৌধুরী বলেন, করোনাভাইরাস নিয়ে বন্দরে সর্তকতা জারি করা হয়েছে। উপজেলা হাসপাতালের পক্ষ থেকে মেডিকেল টিম কাজ করছেন। বন্দরে আসা মিয়ানমারের ট্রলারে থাকা নাগরিকদের স্কেনিং করা হচ্ছে। তাছাড়া তাদের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এসব নাগরিক যেন দেশের অভ্যন্তরে ডুকতে না পারে, সে ব্যাপারে বাড়তি সর্তকতা বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে, কক্সবাজারে করোনাভাইরাস আতংকে মাস্ক ও হেক্সিসলের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় অসাধু ব্যবসায়ীরা ৩০ টাকার মাস্ক ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছে। এই অপরাধে সোমবার রাতে শহরের পানবাজান সড়কের নুর সার্জিক্যাল নামে এক ফার্মেসিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। অভিযান রয়েছে অব্যাহত।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রিত মিয়ানমারের বিশাল জনগোষ্ঠী অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে থাকায় নেয়া হয়েছে বাড়তি প্রস্তুতি। রোহিঙ্গার পাশাপাশি ক্যাম্পে কর্মরত দেশি-বিদেশী লোকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সহযোগিতা নেয়া হচ্ছে বিভিন্ন এনজিও ও আইএনজিও’র।
কক্সবাজার সিভিল সার্জন ড. মো: মাহবুবুর রহমান জানান, স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশনা অনুযায়ী জরুরি মুহূর্তের জন্য ১০০ শয্যার ইউনিট ছাড়াও ২৪ ঘন্টা কাজ করতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে করার মেডিকেল টিম। এনিয়ে আতংকিত না হয়ে চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী সচেতন থাকার কথা বলছেন সিভিল সার্জন।
এদিকে, কক্সবাজার বিমানবন্দরে করোনাভাইরাস শনাক্তকরণে থার্মাল স্ক্যানার পরীক্ষাসহ অন্যান্য কি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে তা জানতে ভিডিওচিত্র ধারণ করতে চাইলে নিষেধ করেন বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক আলআমিন ফারুক। তিনি বলেন, কেন্দ্রের নির্দেশনার বাইরে কোনো সহযোগিতা করতে পারবে না।
করোনাভাইরাস আশংকামুক্ত পর্যটন নগরীতে ঝুঁকি থাকায় ব্যাপক প্রস্তুতির পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি নিয়ে কাজ করছে সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, আতংকিত না হয়ে শুধু সচেতন থাকলেই মোকাবেলা করা যাবে করোনাভাইরাস।






