ক্লাস পরীক্ষা চালুসহ চার দফা দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ১১ শিক্ষার্থী। ক্লাস ও পরীক্ষা শুরুর দাবিতে বিভাগের শিক্ষকদের জানানো এবং কাছে টানা সাত দিন যাবত দাবি আলোচনার পরও কোনো সুরাহা না হওয়ায় গতকাল বুধবার বেলা ১১টায় একাডেমিক ভবন-এ এর সামনে অনশনে বসে শিক্ষার্থীরা।
গত ২৯ ফেব্রুয়ারি পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত নৈশভোজে এক বহিরাগত শিক্ষকের আচরণকে কেন্দ্র করে ক্লাস পরীক্ষা বন্ধ করে দেয় বিভাগটি। এ বিষয়ে বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. শামসুন্নাহার বেগম বলেন, বিভাগের একটি অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অনশনের বিষয়টিও কমিটিকে অবহিত করা হয়েছে। এটি নিয়ে তারা কাজ করছে।
শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো বর্তমান ছাত্র উপদেষ্টা মুহাম্মদ ওমর ফারুকের পদত্যাগ, শিক্ষার্থীদের প্রস্তাবিত তালিকা থেকে পরবর্তী ছাত্র উপদেষ্টা নিয়োগ, ভুক্তভোগী ব্যাচের একাডেমিক কার্যক্রমের সাথে বিভাগীয় প্রধান ও ছাত্র উপদেষ্টার সংশ্লিষ্টতা না রাখা ও বিভাগীয় প্রধানকে অপ্রীতিকর ঘটনার জন্য বিভাগীয় প্রধানের জবাবদিহিতা।
অনশনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থী রাফি আদনান বলেন, আমরা আমরণ অনশনে বসতে বাধ্য হয়েছি। গত ২ মার্চ আমাদের দাবিদাওয়া উপস্থাপন করেছি। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো ৪ তারিখ থেকে ক্লাস পরীক্ষা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। গত সাত দিন যাবত আমরা বিভাগ খুলে দেয়ার দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু কোনো শিক্ষকই এগিয়ে আসেননি।
উল্লেখ্য গত ২৯ ফেব্রুয়ারি পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর নৈশভোজে এক বহিরাগত শিক্ষকের দ্বারা বিভাগের স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষার্থী লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগ ওঠে। অভিযুক্ত শিক্ষক আলাউদ্দিন খান বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক শামসুন্নাহার বেগমের স্বামী ও সিলেট এমসি কলেজের শিক্ষক। বিভাগের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিভাগীয় প্রধান ও ছাত্র উপদেষ্টার উপস্থিতিতেই আলাউদ্দিন খান ওই ছাত্রকে হুমকি দেন এবং লাঞ্ছিত করেন।