কক্সবাজার শহরের আলোচিত কয়েকটি খেলার মাঠসহ প্রত্যেক উপজেলার সঙ্কুচিত, দখলকৃত মাঠগুলো পুনরুদ্ধার এবং সব খেলার মাঠ সংরক্ষণে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লাকে প্রধান করে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই কমিটি আগামী এক মাসের মধ্যে জেলা সব খেলার মাঠের বর্তমান চিত্র তুলে আনা এবং করণীয় সম্পর্কে প্রতিবেদন দেবেন। ওই প্রতিবেদন মোতাবেক সব সংরক্ষণসহ করণীয় সম্পর্কে ব্যবস্থা নেয়া হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতি কক্সবাজার শাখার সেমিনারে এমন সিদ্ধান্তের কথা জানান জেলা প্রশাসক মো: হোসেন।
ক্রীড়া লেখক সমিতির সভাপতি মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের শহীদ এ টি এম জাফর আলম সম্মেলন কক্ষে সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রতিটি শিশু-কিশোরকে সুন্দর এবং নির্মল শৈশব দিতে হবে। তার জন্য প্রধান মাধ্যম খেলাধুলা। তবেই আগামীতে সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন জাতি পাবো। তাই তাদের খেলাধুলা নিশ্চিত করার জন্য খেলার মাঠ দিতে হবে। এ জন্য যা করা প্রয়োজন সব করবে জেলা প্রশাসন।
সেমিনারের শুরুতে জেলা সদর ও উপজেলাগুলোর খেলার মাঠের বর্তমান সমস্যা নিয়ে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ক্রীড়া লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শফিউল্লাহ শফি। তিনি লিখিত বক্তব্যে জানান, কক্সবাজারে ঐতিহ্যবাহী জেলেপার্ক মাঠ। বিমানবন্দরের জন্য নিয়ে নেয়া হয়েছে। অথচ এই মাঠ ছিল শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার সবচেয়ে বড় ঠিকানা। এখন এর বিকল্প আরেকটি মাঠ নির্মাণ করা হবে বলে জেলা প্রশাসক প্রতিশ্রুতি দেন।
আরেক ঐতিহ্যবাহী এবং গুরুত্বপূর্ণ খেলার মাঠ বাহারছড়া গোলচত্বর মাঠও দীর্ঘ দিন ধরে উন্নয়নের নামে খেলাধুলা বন্ধ থাকার কথা জানানো হয়। তবে এ মাঠটি ‘মুক্তিযোদ্ধা স্টেডিয়াম’ নামকরণ করে নতুনভাবে উন্মোচন হবে।
এভাবে কক্সবাজার শহরসহ বিভিন্ন উপজেলার খেলার মাঠগুলো নানাভাবে দখল ও সঙ্কুচিত করা হচ্ছে ক্রীড়া লেখক সমিতির লিখিত বক্তব্যে তুলে ধরা হয়। একই সাথে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেও অনেক খেলার মাঠ পরিত্যক্ত রয়েছে জানানো হয়। অন্য দিকে রোহিঙ্গাদের সেবা দিতে গিয়ে উখিয়ার বেশির ভাগ খেলার মাঠ বিভিন্ন সংস্থার ক্যাম্প নির্মাণসহ নানা ধরনের নির্মাণসামগ্রী রেখে খেলাধুলা বন্ধ করা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও অনেক খেলার মাঠ রোহিঙ্গা দখল করে নিয়েছে।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মাসুদুর রহমান মোল্লা, অতিরিক্ত পুুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আদিবুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রেজাউল করিম, কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের, কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহসভাপতি জসিম উদ্দীন, অনুপ বড়–য়া অপু, সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দীন, জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফজলুল করিম সাঈদী, প্রথম আলোর কক্সবাজার অফিস প্রধান আবদুল কুদ্দুস রানা, দৈনিক সকালের কক্সবাজারের সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল, ক্রীড়া লেখক সমিতির সাবেক সভাপতি এম আর মাহবুব।