গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে বন্ধুদের পাশবিক নির্যাতনে ১৫ বছরের এক কিশোরের মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহতের নাম আল-আমিন। সে টঙ্গীর এরশাদ নগর এলাকার ৬ নম্বর ব্লকের বিল্লাল হোসেনের ছেলে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ নিহতের বন্ধু মাহিন ও হৃদয়কে গ্রেফতার করেছে।
নিহতের পরিবারের বরাত দিয়ে জিএমপির টঙ্গী পশ্চিম থানার পুলিশ জানায়, নিহত আল-আমিন তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা করেছে। পরিবারের অভাব মেটাতে সে কয়েক বছর ধরে একটি লোহার দোকানে কাজ করে। গত ১৯ মার্চ রাতে তার চার বন্ধু তাবলিগের তা’লিম শোনার কথা বলে আলামিনকে ডেকে ইজতেমা ময়দানে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে বন্ধুরা তাকে রুটি খেতে দেয়। রুটি খাওয়ার পর জ্ঞান হারায় আল-আমিন। পরদিন সকালে জ্ঞান ফিরলে বাড়ি ফিরে এলেও সে কাউকে কিছুই জানায়নি। ঘটনার একদিন পর শনিবার সে মারাত্মক অসুস্থতা বোধ করলে তাকে তাৎক্ষণিক টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে আল-আমিনের মলদ্বারে জখমের আলামত পান চিকিৎসকরা। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরলেও বৃহস্পতিবার রাতে তার মৃত্যু হয়।
বন্ধুদের পাশবিক নির্যাতনে (বলাৎকারে) আলামিনের মৃত্যু হয়েছে এমন অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য আলামিনের লাশ গাজীপুর শহীদ তাজ উদ্দিন আহমেদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের মা আমেনা বেগম বাদি হয়ে একই এলাকার মান্নান সর্দারের ছেলে মাহিন (১৫), ইউসুফের ছেলে হৃদয় (১২), ফজর আলীর ছেলে কায়সার (১৫) ও জয়নালের ছেলে সাইফুল (১৪) এর বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি মো: এমদাদুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।



