ফেনী সদর উপজেলার বালিগাঁও ইউনিয়নের চর হকদি গ্রামে মাটি বহনকারী পিকআপ চাপায় পিষ্ট হয়ে দুই শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই ঘাতক পিকআপ ও মাটি কাটার ঘটনায় জড়িতরা পালিয়ে যায়। প্রভাবশালী একটি মহল ঘটনা ধামাচাপা দিতে নানা কূটকৌশল করে।

এলাকাবাসী সূত্র জানায়, চর হকদি গ্রামে ছোট ফেনী নদীর খননের পর কূলে স্তুপকৃত মাটি বিক্রি করছিল হেলাল ও মহিউদ্দিন সহ তার সহযোগীরা।

শনিবার সকালে মাটি কাটার সময় পিকআপ চাপা পড়ে আবদুল আজিজ ও ইমাম হোসেন কানন পিষ্ট হয়ে তারা ঘটনাস্থলে মারা যায়। তাৎক্ষনিক মাটি কাটার কাজে জড়িতরা গাড়ী নিয়ে পালিয়ে যায়। আজিজের পরিবার তার লাশ নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা উপজেলার নাজিরপুর গ্রামে নিয়ে যায়। অপর নিহত ইমাম হোসেনের লাশ ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যায়। ইমাম সুনামগঞ্জ জেলার মধ্যমনগর গ্রামের দ্বীন মোহাম্মদের ছেলে।

স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, মাটি কাটার জন্য নুরুল আলম নামের জনৈক এক ব্যক্তি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক বাহারকে ম্যানেজ করে তার কাছ থেকে লিখিত অনুমতি নেয়।

ফেনী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় ইমামের ছেলে বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়ার প্রস্তুতি চলছে। এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে বালিগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক বাহার ও চর হকদি ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জসিম উদ্দিনের একাধিকবার ফোন করা হলে মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে পাশ্ববর্তী আরেক ইউপি সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মাটি কাটার ওই চক্র শুধু নদীর নয়, কৃষি জমির মাটিও অন্যত্র বিক্রি করেন।