চট্টগ্রামে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া বৃদ্ধের (৬৯) সংস্পর্শে আসা আরো ছয় জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। তাঁরা সবাই একই পরিবারের সদস্য। এর মধ্যে দুই জন কিশোর, একজন পুরুষ ও তিন জন নারী রয়েছেন। তাঁরা সবাই ওই বৃদ্ধের মেয়ের জামাইয়ের পরিবারের লোকজন। এরআগে ওই বৃদ্ধের এক ছেলে, এক মেয়ে জামাইসহ ছয় জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। গত রোববার রাতে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আব্দুল মজিদ ওসমানী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সাতকানিয়া উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, সাতকানিয়ার পশ্চিম ঢেমশা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইছামতি আলীনগর এলাকার এক বৃদ্ধ (৬৯) করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে গত ৯ এপ্রিল চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) মারা যান। তাঁর মৃত্যুর পর নমুনা সংগ্রহ করে চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেজ (বিআইটিআইডি) হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তাঁর করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর আগেই তাঁর লাশ স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় পরিবহন, ধোয়া, কাফন পরানোসহ জানাযা শেষে দাফন করা হয়েছে। পরে ওই বৃদ্ধের সংস্পর্শে আসা স্বজনসহ ১৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে ওই বৃদ্ধের এক ছেলেসহ পাঁচ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়।
এরপর ওই বৃদ্ধের মেয়ের জামাইসহ (মাদার্শার রূপনগর এলাকার বাসিন্দা) আরও কয়েকজনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে গত ১৯ এপ্রিল মেয়ের জামাইয়ের করোনাভাইরাস ধরা পড়ে। এর পরের দিন মেয়ের জামাইয়ের পরিবারের আট সদস্যের নমুনা সংগ্রহ করে বিআইটিআইডিতে পাঠানো হয়। গত রোববার রাতে ওই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ছয় জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। তাঁরা হলেন করোনায় মারা যাওয়া বৃদ্ধের মেয়ে, দুই নাতি, মেয়ের শাশুড়ি, মেয়ের ভাসুর ও ভাসুরের স্ত্রী।
সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিবারকল্পনা কর্মকর্তা মো. আব্দুল মজিদ ওসমানী জানান, সাতকানিয়ায় এ পর্যন্ত ১৫ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এরমধ্যে ১২ জনই হলেন করোনায় চট্টগ্রামে প্রথম মারা যাওয়া বৃদ্ধের (সাতকানিয়ার ইছামতি আলীনগর এলাকার বাসিন্দা) ছেলে, মেয়ে, মেয়ের জামাই, নাতিসহ স্বজন ও প্রতিবেশি। তাঁরা সকলেই ওই বৃদ্ধের সংস্পর্শে আসার কারণেই করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন।
সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূর-এ-আলম জানান, রোববার রাতে সাতকানিয়ায় আরও ছয় জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। তাঁরা সবাই একই পরিবারের সদস্য এবং করোনায় মারা যাওয়া বৃদ্ধের মেয়ের পক্ষের আত্মীয়। ওই পরিবারটি আগে থেকেই লকডাউন করা এবং পরিবারের সকল সদস্য হোম কোয়ারেন্টিন মেনে চলছেন।



