নাম গোলাপ মিয়া। বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর। সুস্থ্য শরীর নিয়ে জন্ম নিলেও ২০০৯ সালে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় পা হারান তিনি। এরপর থেকে হুইল চেয়ার ব্যবহার করেই চলাচল করতে হয় তাকে। গোলাপ মিয়ার পবিবারে চারজন সদস্য। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তিনি। তাই করোনা আতঙ্কে লকডাউনেও বাইরে বের হতে হচ্ছে তাকে।

বেঁচে থাকার তাগিদে গোলাপ মিয়াকে একসময়ে ভিক্ষাবৃত্তিও করতে হয়েছে। মাঝখানে কিছুদিন বাস টার্মিনালে চাকরির সুবাদে ভালোই চলছিল গোলাপের সংসার। কিন্ত করোনার প্রভাবে দেড় মাস ধরে বাস বন্ধ থাকায় সেই আয় এখন বন্ধ। এ পরিস্থিতি ভাবিয়ে তুলেছে তাকে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কিভাবে চলবে তার সংসার! ইচ্ছে না থাকলেও এখন জীবন যুদ্ধে কোনো উপায়ন্তর না পেয়ে মানুষের দ্বারস্থ হচ্ছেন তিনি।

গোলাপ মিয়ার সংসারে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে আছে। পরিবার নিয়ে দোহার উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের মৈনট আশ্রয়ণ প্রকল্পে থাকেন। লকডাউনের মধ্যেও এলাকায় হুইল চেয়ারে করে ঘুরে বেড়ান গোলাপ মিয়া। যদি কারো সহানুভূতি হয়; এই আশায়।

গোলাপ মিয়া জানান, ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে খাবার সহায়তা হিসেবে কিছু চাল পেয়েছেন তিনি। স্ত্রী বাড়ির পাশের পরিত্যক্ত জমি থেকে বিভিন্ন ধরনের শাক-পাতা তুলে আনে। তা দিয়ে কোনো রকমে চলে রান্নার আয়োজন। তবে দুই-চার দিন পরে ঘরের চাল শেষ হলে চুলায় আগুন জ্বলার ব্যবস্থা নিয়ে চরম শঙ্কায় আছে পুরো পরিবার।

ঢাকা-চট্রগ্রাম রোডে বাস শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন গোলাপ মিয়া। ২০০৯ সালে বাস দুর্ঘটনায় মারাত্মক আহত হন তিনি। জীবনে বেঁচে গেলেও একটি পা হারান তিনি। সেই দুর্ঘটনার চিকিৎসা করতে গিয়ে বসতভিটাসহ সব শেষ হয় তার। এরপর পা হারানো গোলাপ জীবন চালাতে বেছে নেয় ভিক্ষাবৃত্তি। এক সময়ে ভাড়া বাড়িতে থেকে ভিক্ষবৃত্তি করে সংসার চালাতেন। দুই বছর আগে দোহার উপজেলার তৎকালীন ইউএনও কেএম আল-আমিনের নজরে আসেন গোলাপ। গোলাপের ভিক্ষাবৃত্তির অবসান ঘটিয়ে উপজেলার মৈনট আশ্রয়ণ প্রকল্পে একটি ঘর দেন তাকে। পাশাপাশি যমুনা পরিবহনের বাস সার্ভিসে চাকরির সুবাদে প্রতিদিন ৩০০ টাকা আয় করতেন গোলাপ মিয়া। সেই টাকা দিয়েই চলছিল সংসার। এরই মধ্যে করোনাভাইরাসের মহামারী শুরু হলে বাস বন্ধ থাকায় বন্ধ হয়ে যায় সেই আয়ের পথ। এতে গোলাপ মিয়ার পরিবারে নেমে আসে অন্ধকার। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে ভিক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে কে দেবে ভিক্ষা।