ত্রাণের চাল আত্মসাতের অভিযোগে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলামকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। বুধবার স্থানীয় সরকার বিভাগ ইউনিয়ন পরিষদ-১ শাখার উপসচিব মো: ইফতেখার আহমদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ দেন। (যার স্মারক নং-৪৬.০০.০০০.০১৭.০০২.২০২০-৪২৮)।

এর আগে গত মঙ্গলবার তার বিরুদ্ধে চাল আত্মসাতের অভিযোগে পেকুয়া থানায় মামলা দায়ের করেন পেকুয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম। মামলায় একমাত্র আসামি করা হয় টইটং ইউপি চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলামকে। এরও আগে ২৭ এপ্রিল প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলামকে বরাদ্দকৃত জিআরের ১৫ টন চালের মাষ্টার রোল ও অন্যান্য কাগজপত্র জমা না দেয়ায় নোটিশ দিয়েছিলেন।

মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, যেহেতু কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী সরকারি ত্রাণের চাল আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন। তাই জেলা প্রশাসক কক্সবাজার স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯-এর ৩৪(৪) (খ) (ঘ) ধারা অনুযায়ী ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশের প্রেক্ষিতে তাকে স্বীয় পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একইভাবে তাকে কেন স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না তা ১০ কর্মদিবসের মধ্যে কারণ দর্শাতেও বলা হয়েছে অপর একটি পরিপত্রে।

সূত্র জানায়, ২০১৯ সালের ২৯ জুলাই কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ শাখা থেকে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে ক্ষতিগ্রস্তদের মানবিক সহায়তা হিসেবে ৪০ টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। (যার স্মারক নং ৫১.০১.২২০০.০০০.৪১.০০৩.১৯.৫৬১)। বরাদ্দকৃত এ ৪০ টন হতে তৎকালীন সময়েই ২৫ টন চাল টইটং ইউপি চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরীর অনুকূলে বরাদ্দ দেয়া হয়। বাকি ১৫ টন চাল সেই সময়ের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব উল করিম বরাদ্দ না দিয়ে ভবিষ্যত যেকোনো দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য রিজার্ভ ফান্ডে জমা রাখেন। ইতোমধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হলে এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে ওই ১৫ টন চাল আত্মসাতের ফন্দি আটেন ওই চেয়ারম্যান।

ওই প্রকল্পের কাগজপত্র যাঁচাইবাচাই করে দেখা যায়, রিজার্ভ ফান্ডের সেই ১৫ টন চাল করোনাভাইসরাসের প্রভাবে দিনমজুর, রিক্সা চালক, অসহায় দুস্থ পরিবারের মধ্যে বিতরণের জন্য গত ৩১ মার্চ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সৌভ্রাত দাশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈকা শাহাদাত স্বাক্ষরিত একটি বরাদ্দপত্রে টইটং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের অনুকূলে বরাদ্দ দেন। (স্বারক নং-উ:নি:অ: ৩০৮ তারিখ: ৩১-০৩-২০২০ইং)। আর ৬ এপ্রিল টইটং ইউপি চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী নিজেই ওই বরাদ্দকৃত চাল চিরিঙ্গা খাদ্য গুদাম থেকে উত্তোলন করেন।

এরই মধ্যে অভিযোগ ওঠে চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী ওই চাল উত্তোলন করে করোনার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের বিতরণ না করে খাদ্যগুদাম থেকেই বিক্রি করে আত্মসাত করেন। বিষয়টি ফাঁস হয়ে গেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ আলোচনা সমালোচনার শুরু হয়। এতে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। পরে আলোচিত ১৫ টন চালের বিষয়ে তদন্ত শুরু হলে গা ঢাকা দেন আলোচিত চেয়ারম্যান জাহেদ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার বাদি পেকুয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম দৈনিক নয়া দিগন্তকে বলেন, মামলা সম্পর্কে আমি কিছু জানি না। আমি শুধু বাদি হয়েছি। কাগজপত্র সব ইউএনও ম্যাডামের কাছে।

এ বিষয়ে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈকা শাহাদাতের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, পিআইও নতুন এসেছে তাই কি বলবে বুঝতে পারেনি। মূলত, টইটং ইউপি চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলামকে যে বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল তার মাষ্টার রোল জমা না দেয়ায় তার বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। এখন আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে চাল আত্মসাতের অভিযোগে চেয়ারম্যান জাহেদের বিরুদ্ধে মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে পেকুয়া থানার ওসি কামরুল আজম দৈনিক নয়া দিগন্তকে বলেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দায়েরকৃত এজাহারটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। মামলা নং -৪ তারিখ: ২৮-০৪-২০২০ ইং। ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫ (১) ধারায় কালোবাজারীর অভিযোগে মামলাটি রুজু করা হয়। মামলার একমাত্র আসামি ইউপি চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলামকে আটকে অভিযান চালানো হচ্ছে।